মা-বাবাই হচ্ছেন সন্তানের প্রথম আদর্শ শিক্ষক

অতিথি লেখকঃ    ১১:১০ পিএম, ২০২১-০৯-১২    151


মা-বাবাই হচ্ছেন সন্তানের প্রথম আদর্শ শিক্ষক

মনিকা শর্মা


মনিকা শর্মা: আমরা এ জীবনকে সুন্দর করে সাজানোর জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি নিরন্তর। মানুষ তার মনের মতো করে তার ভালোলাগাকে প্রাধান্য দিয়ে সুখী জীবনের প্রত্যাশা করে যাচ্ছে। কারণ জীবন একটাই। এ উপলব্ধি থেকে কত না যুদ্ধ করে জীবনকে ঢেলে সাজানোর চেষ্টা হোক সে নারী বা পুরুষ। প্রত্যেক মা-বাবাই তার সন্তানের ভালো চায়। আর আমি-আপনি অবশ্যই চাই যে, আমার-আপনার ছেলে-মেয়ে বড় হয়ে সুশিক্ষায় শিক্ষিত হবে, দেশ ও দেশের মানুষের কল্যাণে এগিয়ে  আসবে। এর জন্য অন্যতম সামাজিক প্রতিষ্ঠান পরিবারের শিক্ষক হচ্ছেন মা-বাবা। এজন্য বলা হয়ে থাকে- একজন সন্তানের জন্য পারিবারিক শিক্ষাটি খুব বেশি জরুরি এবং সেটি অবশ্যই আদর্শ শিক্ষা। আর এর সঙ্গে যোগ হবে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার ডিগ্রি। 

গুণীজনরা বলেন, পরিবারই হচ্ছে শিশুর প্রথম বিদ্যাপীঠ। মা-বাবার কাছেই শিশুর শিক্ষা-দীক্ষা শুরু। মূলত শিশুরা বাবা-মা’র কাছেই লেখাপড়া, নৈতিকতা, আদর্শ বা দেশপ্রেম সম্পর্কে জানতে শুরু করে। তাই মা-বাবাই হচ্ছেন শিশুর প্রথম আদর্শ শিক্ষক। কিংবা মা-বাবাকেই শিশুরা তাদের প্রথম আদর্শ গুরু হিসেবে মানতে শুরু করে। আর সে কারণে শিশুর বেড়ে ওঠায় মা-বাবার ভূমিকা সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ বা প্রয়োজন।

শিশুর বেড়ে ওঠায় মা-বাবার ভূমিকা সম্পর্কে আমেরিকার প্রথম প্রেসিডেন্ট জর্জ ওয়াশিংটন বলেছেন, আমার দেখা সবচেয়ে সুন্দরী মহিলা হলেন- আমার মা। মায়ের কাছে আমি চিরঋণী। আমার জীবনের সব অর্জন তারই কাছ থেকে পাওয়া। নৈতিকতা, বুদ্ধিমত্তা বা শারীরিক শিক্ষার ফল- সবই পেয়েছি তার কাছ থেকে। অন্যদিকে ফ্রান্সের সম্রাট বা ইতালির সাবেক রাজা নেপোলিয়ন বোনাপার্ট বলেছেন- তুমি আমাকে আদর্শ মা দাও, আমি তোমাকে আদর্শ জাতি উপহার দিব। আবার অন্য এক জায়গায় বলা হয়েছে- মায়ের শিক্ষাই শিশুর ভবিষ্যতের বুনিয়াদ, মা-ই হচ্ছেন শিশুর সর্বোৎকৃষ্ট বিদ্যাপীঠ।

যাহোক ফিরে আসি মূল কথায়। ছেলে মেয়ে মানুষ করা ভরসার জায়গা হয়ে উঠুন। শিশুর জন্ম হয়। সেই সঙ্গে সঙ্গে জন্ম হয় মা বাবার ও। শিশুর বেড়ে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে মা - বাবাও শিখেত শিখতে পথ চলেন।এই শেখাটা যত নিখুঁত হয়, যুক্তিপূর্ণ হয়,সংবেদনশীল হয়,ততই শিশু মানুষ হয়ে ওঠার ভিত দৃঢ় হয়।এই হাত ধরাতেই বড় দায়িত্ব।যেখানে অভিভাবকদের শুধু দায়বদ্ধতা থাকবে কিন্তু অহংকার থাকবে না। শিশুর হাত ধরার প্রথম মুহূর্ত থেকে মনে রাখতে হবে এই দায়িত্ব বড় আনন্দের বড় সুখের। তাই তা পালনেও যতœবান হতে হবে। শিক্ষার্থী হিসেবে মা বাবা যত ভালো হবেন, তাদের সন্তান ও ততটাই ভালো মানুষ হবে।শেখাটা বড় জরুরি মা - বাবা ও সন্তান উভয়ের ক্ষেত্রে এই কথা প্রযোজ্য। শিশু বয়সে বাবা - মার জগতটাই তার জগত।সে বুঝতে শিখলে তাকে তার কাজের দায়িত্ব দিন।সে যেই কাজগুলো করতে পারবে তাকে সেগুলো করতে বলুন।তার টেবিল সাজানো বই গোছানো আরো অনেক কিছু আপনার কাজ শুধু চেক করা সে সঠিক ভাবে করছে কিনা।স্নেহ যদি যুক্তির জালকে আচ্ছন্ন না করে তাহলই দেখবেন ছেলে মেয়ে আপনার বন্ধু হয়ে উঠছে। বন্ধু হয়ে ওঠা জরুরি। ছেলেবেলা থেকেই শিশুকে নিরাপত্তার আশ্বাস দিতে হবে বাড়িকে পরিবারকে সে যেন ভালবাসতে শিখে। কিশোর মন ভালো মন্দ গুলিয়ে ফেলে, অনেক সময় ভুল পথে পা বাড়ায়। তাই প্রথম থেকে একটা বিষয়ে বিশেষ করে জোর দিন কোন কিছু আপনার থেকে যেন না লুকায়। ছোট বড় যে কোন বিষয় যেন শেয়ার করে। মা - বাবার ও দরকার তাদের সাথে খোলামেলা আলোচনা করা। অভিভাবকের অধিকারবোধ থেকে আপনাদের মত তাদের ওপর চাপিয়ে দিবেন না। বাবা -মা কট্ররপন্থী হয়ে পড়লেই সংসারে বিরোধ বাড়বে। বাবা - মায়ের খেয়াল রাখতে হবে তারা কি ভালবাসে মায়ের জায়গার পাশাপাশি বাবার ভুমিকা ও কম নয়। অনেক বাবা আছেন সংসারের খরচ মিটানো মানে তার দায়িত্ব শেষ। ভুল এই কথা সম্পূর্ণ ভুল বাবার ও ছেলে মেয়ের প্রতি অনেক দায়িত্ব থাকে। অনেক বাবা ভাবেন আমি সংসারের কর্তা অতএব আমি যা বলবো তাই শুনতে হবে। মায়েরা মনে করে ছেলে মেয়ের জন্য সারাজীবন স্যাক্রিফাইজ করছি এই মানসিকতা ও একেবারে গ্রহণযোগ্য নয়।সন্তানকে উভয় ভালভাবে বোঝাতে পারলে তাদের মধ্যে দায়িত্ব জ্ঞান গড়ে উঠবে। তাই বাবা-মাকে সংবেদনশীল হতে হবে। মরমী হতে হবে। তাহলে তারা আলাদা মানুষের মতো মানুষ হতে পারবে। এদের একটা নিজস্ব জগত আছে সেই জগতটাকে বাবা-মাকে প্রথমে বুঝতে হবে। আজকাল ব্যস্ত জীবনে পরিবারে কিঞ্চিৎ হলেও আগের তুলনায় সমস্যা একটু বেশি। মা বাবার ব্যস্ততার কারণে অনেক সময় সন্তানকে নিরাপত্তা হীনতা, যোগাযোগ হীনতার দিকে ঠেলে দেয়। সেই সঙ্গে তাদের মনের উপর চাপ এসে পরে। তাই বলি ছেলে মেয়ের মনের ওপর কোন মানসিক চাপ দিবেন না।কিন্তু বাইরের কাজ করে ও ছেলেমেয়েদের কিছু টাইম কাটানো সম্ভব যদি বাবা-মায়ের মনের ইচ্ছে থাকে। সপ্তাহে একদিন একসাথে থাকা খাওয়া ঘুরতে যাওয়া অভ্যাস করুন।নিজেদের মধ্যে মতান্তর হতেই পারে, কিন্তু তার প্রকাশেও যেন রুচি বজায় থাকে। ছেলে মেয়ের ভালো হওয়া বাবা-মায়ের ভালো সম্পর্ক থাকা জরুরি। সব সম্পর্ক যতনে লালন করতে হয়।মনে রাখবেন আপনাদের ঝগড়াঝাটি ছেলে মেয়ের ওপর প্রভাব বিস্তার করে। অনেক বাবা আছেন সন্তানের মাকে বারে বারে অপমান করে এতে সন্তানের মনে প্রভাব ফেলে। এভাবে ছেলে মেয়ের কচি মনটাকে নষ্ট করে দিবেন না। যতটা নিষ্কলঙ্ক রাখা যায় ততই ভালো। মনের যতœ নিন আদরে আহ্লাদে সময় দিয়ে সন্তানদের মানুষের মতো মানুষ হিসাবে গড়ে তুলুন।আপনার প্রানের চেয়ে প্রিয় ধনকে। 

তবে পারিবারিক শিক্ষাটি কতটি জরুরি- তা এখন বড় হয়ে বুঝতে পেরেছি। সত্যি কথা, ছোটবেলায় ঘরোয়াভাবে মা-বাবার কাছে যেসব সামাজিক শিক্ষা পেয়েছি, সেসব শিক্ষাই এখন সবচেয়ে বেশি কাজে লাগছে। আসলে মূল কথা হল- আদর্শ, নৈতিকতা বা সামাজিকতা এসব তো পরিবারের কাছ থেকেই শিখতে হবে। যে যত বেশি এসব শিক্ষা পরিবারের কাছ থেকে পাবেন, তিনি তত বেশি এগিয়ে যাবেন।

লেখিকা- মনিকা শর্মা, সংগীত শিল্পী



রিটেলেড নিউজ

আহমদ ছফা : বিস্ময়কর এক নক্ষত্রের নাম

আহমদ ছফা : বিস্ময়কর এক নক্ষত্রের নাম

অনলাইন ডেস্কঃ

আহমদ ছফা : বিস্ময়কর এক নক্ষত্রের নামনূরুল আ‌নোয়ারএকজন মানু‌ষের জীব‌নে বহু রকম ঘটনা ঘ‌টে, তার ... বিস্তারিত

লেখক সমাজচিন্তার বাইরে নয়

লেখক সমাজচিন্তার বাইরে নয়

মুহম্মদ রুহুল আমিন:

আহ! লেখক আর কবি-কবি-সাহিত্যিক কিংবা লেখক যে কেউ হতে পারে না। ইচ্ছে করলেও না। কেননা এখানে নিজেকে ... বিস্তারিত

হায় মৃত্যু! তুমিই সত্য আর কিছু না

হায় মৃত্যু! তুমিই সত্য আর কিছু না

চাটগাঁর সংবাদ অনলাইন ডেস্ক:

হারুনের সঙ্গে দেখা উত্তরা ক্লাবে। একটা কাজে গিয়েছিলাম বিকালের দিকে। হারুন লং টেনিস খেলে ... বিস্তারিত

সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী না হলে বল প্রয়োগের রাজনীতি বেশিদিন থাকে না

সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী না হলে বল প্রয়োগের রাজনীতি বেশিদিন থাকে না

আফছার উদ্দিন লিটন

সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী না হলে বল প্রয়োগের রাজনীতি বেশিদিন থাকে নাআবুল হসানাত মো. বেলাল। একজন ... বিস্তারিত

নিষ্ঠা, সততা ও সাহসের মূর্তপ্রতীক

নিষ্ঠা, সততা ও সাহসের মূর্তপ্রতীক

অতিথি লেখকঃ

তোফায়েল আহমেদ বাংলার গণমানুষের নন্দিত নেত্রী বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৪তম ... বিস্তারিত

অনলাইনভিত্তিক প্রতারণা ও করণীয়

অনলাইনভিত্তিক প্রতারণা ও করণীয়

অতিথি লেখকঃ

উম্মে হাবীবা আফরোজাসভ্যতার অগ্রগতির সাথে সাথে মানুষের মধ্যে প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ বৃদ্ধি পেলেও ... বিস্তারিত

সর্বশেষ

বুধবার যে পথে যাবে মিলাদুন্নবীর জশনে জুলুস

বুধবার যে পথে যাবে মিলাদুন্নবীর জশনে জুলুস

অনলাইন ডেস্কঃ

হজরতুল আল্লামা পীর সৈয়্যদ মুহাম্মদ সাবির শাহের (মজিআ) নেতৃত্বে বুধবার (২০ অক্টোবর) নগরের মুরাদপুর ... বিস্তারিত

চন্দনাইশে যুবলীগের শান্তি ও সম্প্রীতি র‌্যালী অনুষ্ঠিত

চন্দনাইশে যুবলীগের শান্তি ও সম্প্রীতি র‌্যালী অনুষ্ঠিত

মুহাম্মদ আরফাত হোসেন, বিশেষ প্রতিনিধিঃ

’সাম্প্রদায়িক সন্ত্রস; রুখে দাঁড়াও বাংলাদেশ’ এ শ্লোগানে কেদ্রীয় কর্মসূচীর অংশ হিসেবে চন্দনাইশে ... বিস্তারিত

সাম্প্রদায়িক অপশক্তির বিরুদ্ধে দল মত নির্বিশেষে সবার ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহবান জানান মহিউদ্দিন বাচ্চু

সাম্প্রদায়িক অপশক্তির বিরুদ্ধে দল মত নির্বিশেষে সবার ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহবান জানান মহিউদ্দিন বাচ্চু

বিশেষ প্রতিনিধিঃ

বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল এর ... বিস্তারিত

সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়ার লক্ষে দেবাশীষ পাল দেবুর নেতৃত্বে যুবলীগের শান্তি ও সম্প্রীতি মিছিল

সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়ার লক্ষে দেবাশীষ পাল দেবুর নেতৃত্বে যুবলীগের শান্তি ও সম্প্রীতি মিছিল

নিজস্ব প্রতিনিধি:

বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ কর্তৃক ঘোষিত কর্মসুচীর অংশ হিসেবে কেন্দ্রীয় কমিটির চেয়ারম্যান শেখ ... বিস্তারিত