করোনায় স্বাস্থ্য ব্যবস্থার রুগ্ন অবস্থা

আফছার উদ্দিন লিটন    ০২:০১ পিএম, ২০২১-০৮-২২    95


করোনায় স্বাস্থ্য ব্যবস্থার রুগ্ন অবস্থা

দেশে করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে; সেই সঙ্গে বাড়ছে শঙ্কা। করোনার নতুন নতুন স্ট্রেইন আসাতে এ সমস্যা হয়েছে। যে কারণে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ ভারত ও ব্রাজিলকে লন্ডভন্ড করে  দিচ্ছে। এ দুটি দেশে মৃত্যুর  হার ও আক্রান্তের হার আগের চেয়ে অনেক কমেছে। ২৯ জুলাই পর্যন্ত ভারতে ২৪ ঘন্টায় করোনায় সংক্রমণের হার ছিল ২.৫২ শতাংশ। মৃত্যুর  হার ছিল ১.৩৪ শতাংশ। শুধু তাই নয়। ভারতে শনাক্ত হওয়া করোনার ডেল্টা এখন পর্যন্ত ১৩২টি দেশে ছড়িয়েছে। করোনায় দেশে এখন রোগী শনাক্তের হার প্রায় ৩০ শতাংশের কাছাকাছি। মাস্ক না পড়া, সামাজিক দুরত্ব মেনে না চলা। রাজনৈতিক জনসমাবেশ এড়িয়ে না চলা। দেশের পর্যটন স্পটগুলোতে উপচেপড়া মানুষের ভিড় এবং ঘন ঘন হাত না ধোয়া ইত্যাদি কারণে করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউ আমাদের মাঝে আঘাত হেনেছে। সরকার করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে যাচ্ছে। সরকার তার সেবার পরিধি বাড়াচ্ছে। করোনা রোগীদের চিকিৎসায় ঢাকার বাইরে আইসিইউ বেড স্থাপন করা হয়েছে। কিন্তু তারপরেও বাংলাদেশে জনসংখ্যার অনুপাতে আইসিইউ বেডের সংখ্যা প্রতিবেশী দেশ ভারত কিংবা পাকিস্তান, এমনকি নেপালের চেয়েও অনেক কম। বাংলাদেশে প্রতি এক লাখ লোকের জন্য রয়েছে শূন্য দশমিক সাতটি বেড, যেখানে ভারতে এই সংখ্যা দুই দশমিক তিন। আর উন্নত দেশগুলোর সঙ্গে তুলনা করলে হতাশা শুধুই বাড়বে। এ বছরের জানুয়ারি মাসে প্রকাশিত একটি নিবন্ধে দেখা যায়, জনসংখ্যার অনুপাতে বাংলাদেশের আইসিইউ বেডের সংখ্যা ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, শ্রীলঙ্কা বা মিয়ানমারের চেয়ে কম।
বাংলাদেশে ষোল কোটির মানুষের ১০ শতাংশের মধ্যেও যদি করোনা ছড়ায়, সেটা হবে এক কোটি ৬০ লাখ মানুষ। তাদের মধ্যে যদি পয়েন্ট ফাইভ, পয়েন্ট ফোর বা পয়েন্ট ওয়ান পার্সেন্ট মানুষের অবস্থা গুরুতর হয়, তাহলে আমরা হাসপাতালে আর চিকিৎসা করতে পারবো না। এ কথা বলেছিলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার সাবেক পরিচালক বেনজীর আহমেদ। তিনি সেসময় আরো বলেছিলেন "এতো আইসিইউ, এতো ফ্যাসিলিটিজ আমাদের নেই''-একেবারে নির্দিষ্ট করেই তিনি জানালেন। আর চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত যেখানে করোনা আক্রান্ত রোগীর শনাক্তের হার ছিল ৫-৭%। তা এখন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩০% এর কাছাকাছি। যে কারণে মৃত্যুর হারও বেড়েছে। ১ জুলাই থেকে ১৭ জুলাই পর্যন্ত করোনায় প্রতিদিন সর্বোচ্চ রেকর্ডসংখ্যক মৃত্যু হয়েছে। কখনো ২৩০ কখনো ২১৬ কখনো ২১০ জন মৃত্যুর এমন পরিসংখ্যান দেখেছি। ২৪ জুলাই শনিবার পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে কোভিড নাইনটিনে আক্রান্তের সংখ্যা ১৯ কোটি ৪৪ লাখ ২৫ হাজারের বেশি। মৃত্যুর সংখ্যা ৪১ লাখ ৬৮ হাজার ছাড়িয়ে গেছে ।
দেশে হাসপাতালের সংখ্যাঃ সরকারের স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে সরকারি হাসপাতাল রয়েছে ৬৫৪টি এবং এসব হাসপাতালে মোট শয্যার সংখ্যা ৫১,৩১৬টি। আর বেসরকারি হাসপাতাল রয়েছে ৫,০৫৫টি, যেখানে মোট শয্যার সংখ্যা ৯০,৫৮৭টি। বাংলাদেশের পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, দেশে অনুমিত জনসংখ্যা ১৬ কোটি ৪৬ লাখ। সেই হিসাবে প্রতি ১,১৫৯ জন ব্যক্তির জন্য হাসপাতালে একটি শয্যা রয়েেেছ।
চিকিৎসকের সংখ্যাঃ বাংলাদেশের স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সরকারি স্বাস্থ্যখাতে কর্মরত মোট চিকিৎসকের সংখ্যা বর্তমানে ২৫,৬১৫ জন। আর চিকিৎসক, সেবিকা ও নানা পর্যায়ের হাসপাতাল কর্মী মিলে মোট জনবল কর্মরত রয়েছেন ৭৮,৩০০ জন। বাংলাদেশ মেডিকেল এন্ড ডেন্টাল কাউন্সিলে নিবন্ধিত মোট চিকিৎসকের সংখ্যা ৯৩,৩৫৮ জন। আর নিবন্ধিত দন্ত চিকিৎসকের সংখ্যা ৯,৫৬৯ জন।
আইসিইউ'র সংখ্যা: করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের অসুস্থতা গুরুতর হয়ে উঠলে শ্বাসকষ্ট বা ফুসফুসের সমস্যা দেখা দিতে পারে। চীন, ইতালি, স্পেন, যুক্তরাষ্ট্র, ব্রাজিল, ফান্স, জার্মানি, রাশিয়াসহ যেসব দেশে বেশি রোগী  মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে, সেখানে নিউমোনিয়া, ফুসফুসের জটিলতার কারণেই বেশিরভাগ রোগীর মৃত্যু হয়েছে। করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসার এক পর্যায়ে এই রোগীদের নিবিড় পরিচর্যা ইউনিটে (আইসিইউ) চিকিৎসার প্রয়োজন দেখা যায়। দেশের সরকারি-বেসরকারি বেশিরভাগ হাসপাতালেই নিবিড় পরিচর্যা ইউনিটে (আইসিইউ) প্রয়োজনের তুলনায় শয্যার সংকট রয়েছে। সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে মোট আইসিইউ শয্যা রয়েছে মাত্র ১,১৬৯টি। এর মধ্যে সরকারি হাসপাতালে রয়েছে ৪৩২টি। ঢাকায় ৩২২টি, ঢাকার বাইরে ১১০টি। আর বেসরকারি হাসপাতালে রয়েছে ৭৩৭টি। ঢাকা মহানগরীতে ৪৯৪টি, ঢাকা জেলায় ২৬৭টি, অন্যান্য জেলায় ২৪৩টি।
ভেন্টিলেটর সংকট: করোনাভাইরাসের প্রকোপ শুরু হওয়ার পর যে যন্ত্রটির কথা সবচেয়ে বেশি শোনা যাচ্ছে তা হলো ভেন্টিলেটর। করোনাভাইরাসে যারা গুরুতরভাবে সংক্রমিত হচ্ছেন, তাদের প্রয়োজন ভেন্টিলেটর। করোনাভাইরাসের চিকিৎসার জন্য দেশে সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে পর্যাপ্ত ভেন্টিলেটর নেই। কিছু দিন আগে দেশে করোনাভাইরাস মোকাবিলায় সরকারের  প্রস্তুতির ব্যাপারে জানাতে গিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছেন, বিদেশ থেকে এরই মধ্যে আড়াইশ ভেন্টিলেটর মেশিন দেশে এসেছে। আরও সাড়ে তিনশ ভেন্টিলেটর আমদানির প্রক্রিয়া চলছে। ২৫ জুলাই রবিবার এনটিভি সূত্রে জানা যায় করোনা চিকিৎসায় যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী চিকিৎসকদের পাঠানো ২৫০টি ভেন্টিলেটর ঢাকায় আসার কথা এ ভেন্টিলেটরগুলো এয়ারপোর্ট থেকে গ্রহণ করেছে প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক। সমস্যা হচ্ছে অনেক বড় বড় দেশেও এতোগুলো ভেন্টিলেটর থাকে না। সারা পৃথিবীতেই এ রকম একটি কঠিন সময়ে এই ভেন্টিলেটরের প্রচন্ড অভাব পড়েছে। আমেরিকাসহ ইউরোপের উন্নত ও ধনী দেশগুলোতেও যথেষ্ট সংখ্যায় এই যন্ত্রটি নেই। ইউরোপের বিভিন্ন দেশের হাসপাতাল থেকেও বলা হচ্ছে যে শুধুমাত্র ভেন্টিলেটর না থাকার কারণে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত অনেক রোগীর জীবন হুমকির মুখে পড়েছে।
অক্সিজেন সংকট: করোনায় মেডিকেল গ্রেডের অক্সিজেনের চাহিদা বেশি থাকায়Ñকিছু প্রতিষ্ঠান ইন্ডাস্ট্রিয়াল গ্রেডের অক্সিজেন প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান থেকে অক্সিজেন নিয়ে ক্রসফিলিং ও টেম্পারিংয়ের মাধ্যমে মেডিকেল গ্রেডের সিলিন্ডারে অক্সিজেন ভরে সাধারণ মানুষকে প্রতারিত করছে। বিশেষজ্ঞদের মতে ইন্ডাস্ট্রিয়াল গ্রেডের অক্সিজেন সিলিন্ডার শ্বাসকষ্টের রোগীর কোনো কাজে আসবে না। সিলিন্ডারে সমস্যা থাকলে মানুষের মৃত্যুও হতে পারে। এছাড়া ক্রসফিলিং বা টেম্পারিং করা এসব সিলিন্ডার বাসায় মজুত করলে বড় ধরনের দুর্ঘটনার সম্ভাবনা রয়েছে। দেশে মেডিকেল গ্রেডের অক্সিজেন প্রস্তুত করে এমন শীর্ষ তিনটি প্রতিষ্ঠান হচ্ছে, চট্টগ্রামের সাগরিকায় সরকারি- বেসরকারি যৌথ মালিকানার বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান লিন্ডে বাংলাদেশ, কালুরঘাট এলাকার স্পেকট্রাম অক্সিজেন লিমিটেড ও নারায়ণগঞ্জের ইসলাম অক্সিজেন লিমিটেড। এসব প্রতিষ্ঠানের কোনো ডিলার বা ডিস্ট্রিবিউটর নেই। তারা হাসপাতালগুলোতে অক্সিজেন প্ল্যান্ট প্রস্তুত করে দেয়। পরবর্তীতে সে প্ল্যান্টে অক্সিজেন গ্যাস সাপ্লাই করে। মেডিকেল সরঞ্জামের ব্যবসায়ীদের মতে অক্সিজেনের সিলিন্ডার ও অক্সিজেন মিটার অনেকটাই আমদানি নির্ভর। চীন, ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়াসহ বিভিন্ন দেশ থেকে এসব সরঞ্জাম আসে। এখন সেসব দেশেও সংকট চলছে। ফলে সেখানেও বেড়ে গেছে অক্সিজেন সিলিন্ডার, মিটারের দাম।
সরকারি হাসপাতালে পর্যাপ্ত আইসোলেশন ইউনিটের সংকট: বাংলাদেশে করোনাভাইরাস শনাক্ত হওয়ার পর থেকেই সবার দৃষ্টি পড়েছে দেশটির স্বাস্থ্য অবকাঠামো ঠিক কতটা প্রস্তুত এ রকম একটি জরুরি স্বাস্থ্য অবস্থা মোকাবেলায় সেই দিকে। গত বছর আমরা দেখলাম, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা দিতে ঢাকায় আটটি হাসপাতালের নাম জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ, যদিও সবগুলো হাসপাতাল পুরোপুরি প্রস্তুতি শেষ করে করোনা রোগীদের কতটুকু স্বাস্থ্যসেবা দিয়েছে তা নিয়েও সংশয় রয়েছে। ঢাকার বাইরে প্রতিটা জেলা শহরের হাসপাতালগুলো আইসোলেশন ইউনিট খোলা হলেও, খবর পাওয়া গেছে যে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তাদের প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও প্রস্তুতি অভাব রয়েছে।  দেশে এ পর্যন্ত যে কটি আইসোলেশন সেন্টার স্থাপিত হয়েছে তার অধিকাংশই বেসরকারি মালিকানায়; শুধু ডিএনসিসি এবং সিসিসি আইসোলেশন সেন্টার ব্যতীত। এসব প্রতিষ্ঠান বেসরকারি উদ্যোগে দেশের স্বার্থে আইসোলেশন সেন্টার খুললেও করোনা রোগী কমে যাওয়ায় তারা আবার বন্ধ করে দেয়। যার ফলে চলতি বছরের মার্চ থেকে যখন করোনার দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হয়েছেÑতখন আবার আইসোলেশন সেন্টার এবং ফিল্ড হাসপাতালের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। তবে, এখনো দেশের সরকারি হাসপাতালগুলোতে পর্যাপ্ত আইসোলেশন ইউনিটের ব্যবস্থা নেই। এ নিয়ে সরকারকে ভাবতে হবে। বেসরকারি হাসপাতালে আইসোলেশন ইউনিট থাকলেও তা ব্যায়বহুল। ২০২০ সালের ২৮মে বিভিন্ন ইলেকট্রিক ও প্রিন্ট মিডিয়া সূত্রে জানা যায় ঢাকার বেসরকারি ইউনাইটেড হাসপাতালে ২৭ মে বুধবার রাতে আগুনে পাঁচ রোগীর মৃত্যুর সংবাদ। এ নিয়ে এখন নানা প্রশ্ন। ফায়ার সার্ভিস বলছে হাসপাতালের কোনো ফায়ার ফাইটার টিম নেই। আর মূল হাসপাতালের বাইরে ওই আইসোলেশন সেন্টারটিই ছিলো মৃত্যুফাঁদ! শুধু বাংলাদেশে নয়, ভারত এবং ইরাকে কিছু হাসপাতালের করোনা আইসোলেশন ইউনিটে এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে। এতে অনেকেই মৃত্যুবরণ করেছে।
আইসোলেশন সেন্টার বৃদ্ধি করা:  ২৪ জুলাই শনিবার পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে কোভিড নাইনটিনে আক্রান্তের সংখ্যা ১৯ কোটি ৪৪ লাখ ২৫ হাজারের বেশি। মৃত্যুর সংখ্যা ৪১ লাখ ৬৮ হাজার ছাড়িয়ে গেছে । ২৫ জুলাই রবিবার পর্যন্ত দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন ১৯ হাজার ৫২১ জন। আক্রান্ত হয়েছেন ১১ লাখ ৭৯ হাজার  ৮২৭ জন। সুস্থ্য হয়েছেন ১০ লাখ ৯ হাজার ৯৭৫ জন। তাই সরকারের উচিৎ আইসোলেশন সেন্টার বৃদ্ধি করা। সমস্যা হচ্ছে বেসরকারি উদ্যোগে সরকার আইসোলেশন সেন্টার খুললেও তা আবার নানা কারণে বন্ধ হয়ে যায়। ২০২০ সালের ১৭ মে আন্তর্জাতিক কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় দুই হাজার শয্যাবিশিষ্ট আইসোলেশন ইউনিট চালু করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. জাহিদ মালেক। সেদিন ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরার চারটি কনভেনশান সেন্টার ও একটি প্রদর্শনী তাঁবুতে গড়ে উঠেছিল বাংলাদেশের বৃহত্তম এই কোভিড-১৯ হাসপাতাল। লন্ডনের এক্সেল এক্সিবিশন সেন্টারের "নাইটিঙ্গেল হাসপাতাল" ও মাদ্রিদের আইএফইএমএ কনভেনশন সেন্টারের আদলে কনভেনশন সেন্টারকে রূপান্তরিত করে বাংলাদেশেও তৈরি হয়েছিল কোভিড-১৯ আক্রান্ত রোগীদের জন্য বিশেষায়িত হাসপাতাল। বেসরকারি উদ্যোগে বসুন্ধরা গ্রুপ তাদের জমি ও অবকাঠামো অস্থায়ীভাবে ব্যবহার করতে দিলেও হাসপাতাল বানানোর মূল কাজটি করছে বাংলাদেশ সরকার।
অন্যদিকে, ডিএনসিসি মার্কেটে ১ হাজার ৩০০ ও উত্তরার দিয়াবাড়িতে ১ হাজার ২০০ শয্যা আইসোলেশন সেন্টার চালু করেছিল সরকার। পাশাপাশি রাজধানীসহ বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় আরও ৬০১টি প্রতিষ্ঠান আইসোলেশন সেন্টার হিসেবে ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত করার কথাও বলেছিলেন সেসময় স্বাস্থ্যমন্ত্রী। করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে থাকায় চট্টগ্রাম সিটি করোপরেশনের (সিসিসি) উদ্যোগে ৫০ শয্যার আইসোলেশন সেন্টার চালু হয়েছে। মঙ্গলবার (৬ এপ্রিল)দুপুরে নগরীর লালদীঘির পাড়ে সিসিসি লাইব্রেরি ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ভবনে এই আইসোলেশন সেন্টারের কার্যক্রম উদ্বোধন করেন মেয়র এম রেজাউল করিম চৌধুরী। কোভিড-১৯ সংক্রমণ অতিদ্রুত  হারে বৃদ্ধির ফলে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ের চিকিৎসা সেবা কেন্দ্রগুলোতে ঠাঁই নেই অবস্থা। এই পরিস্থিতি উদ্বেগজনক ও অস্বস্তিকর। উদ্ভুত এই পরিস্থিতি সামাল দিতে আইসোলেশন সেন্টারের যাত্রা শুরু হল জীবন ছন্দে ফেরানোর প্রত্যাশা ও অঙ্গীকার পূরণের স্বপ্ন নিয়ে। সংক্রমণের দ্রুত বিস্তার সত্ত্বেও দিশেহারা হওয়া বা মনোবল হারানোর অবকাশ নেই। প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়ে আপাতত ৫০ শয্যা নিয়ে আইসোলেশন সেন্টারটি চালু হলেও পরিস্থিতি বিবেচনায় তা সম্প্রসারণ এবং চিকিৎসকসহ জনবল বাড়ানোর কথা রয়েছে। সিসিসির এই আইসোলেশন সেন্টারটিতে আক্রান্তদের বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা দেয়া হচ্ছে। যারা সেবাদানে নিয়োজিত তাঁদের অবশ্যই মূল্যায়ন করা হবে। এখানে নিয়োজিত ডাক্তার, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদেরকে সামাজিক ও মানবিক দায়িত্ববোধ থেকে সততা, নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সাথে সেবা প্রদানের আহ্বান জানিয়েছেন মেয়র। এর আগে গত বছর করোনাভাইরাস সংক্রমণ শুরু হলে আগ্রাবাদ এক্সেস রোডের একটি কমিউনিটি সেন্টারে আইসোলেশন সেন্টার চালুর উদ্যোগ নেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সদ্য সাবেক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন। তিনি ২০২০ সালের ১৩ জুন ২৫০ শয্যার এই আইসোলেশন সেন্টারটি চালু করেন। ১৪ আগস্ট বন্ধ হওয়ার আগ পর্যন্ত সেখানে সেবা নেন মোট ১২৯ জন। বহির্বিভাগে সেবা নেন ৩০ জন। তখন ওই আইসোলেশন সেন্টারে ১৬ চিকিৎসকসহ ৯৭ জন স্বাস্থ্যকর্মী কাজ করেছিলেন।
বসুন্ধরা আইসোলেশন সেন্টার: সরকার বসুন্ধরা আইসোলেশন সেন্টারের করলেও এর কয়েক মাস যেতে না যেতে সরকারের বিরুদ্ধে তা আবার গায়ের করার অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে মিডিয়াও সরব ছিল। গত বছর করোনাভাইরাস সংক্রমণের প্রেক্ষাপটে বসুন্ধরা গ্রুপের আন্তর্জাতিক কনভেনশন সেন্টার সংলগ্ন এলাকায় ২ হাজার ১৭ শয্যার এটি চালু করা হয়। এর মধ্যে ৫০টি আইসিইউ শয্যা ছিল। এখানে ১২০ জন চিকিৎসক, ১৬৬ জন নার্স, স্বাস্থ্যকর্মীসহ ৩৪৯ জনবলের পদায়ন করা হয়। শুধু আইসোলেশন সেন্টারটি তৈরি করতে ৪১ কোটি টাকা ব্যয় হয়। তাছাড়া  গ্যাস, পানি, ওষুধ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা করতে ৪ কোটি টাকা, এসএসএম সামগ্রী কিনতে ৪০ কোটি টাকা, বিদ্যুৎ বিল বাবদ ৩৫ লাখ টাকা এবং পানির জন্য ১৫ লাখ টাকা ব্যয় হয়। কিন্তু এই হাসপাতালে মাত্র ৯২১ জন রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন। এক দিনে সর্বোচ্চ ৩২ জনের মতো রোগী ভর্তি হয়েছিলেন। হিসাব করলে দেখা যায়, রোগীপ্রতি ৯ লাখ ২৮ হাজার টাকার ওপরে ব্যয় হয়েছে। আইসোলেশন সেন্টারটি বন্ধ করার কারণ উল্লেখ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, করোনার উপসর্গ আছে, এমন রোগীদের বিচ্ছিন্ন করে রাখার জন্য সেটি তৈরি করা হয়। ওইসব রোগীর জ্বর, শ্বাসকষ্টসহ অন্যান্য উপসর্গ দেখা দিলে প্রাথমিকভাবে চিকিৎসার জন্য চিকিৎসক, নার্সসহ অন্যান্য জনবল নিয়োগ করা হয়। হঠাৎ কোনো রোগীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তার আইসিইউর প্রয়োজন হতে পারে সে ভাবনা থেকে ৫০ শয্যার আইসিইউ ইউনিটও চালু করা হয়েছিল। কিন্তু দেখা গেল, সেখানে রোগী যাচ্ছে না।
এর মধ্যেই আবার সংক্রমণ কমতে শুরু করল। একে একে করোনা চিকিৎসায় যুক্ত হাসপাতালগুলোর কয়েকটি বাদ দিয়ে সাধারণ রোগীদের চিকিৎসায় ফেরানো হলো। কিন্তু বসুন্ধরার ওই আইসোলেশন সেন্টারটি সাধারণ চিকিৎসায় ফেরানো সম্ভব নয়। কারণ ওই সেন্টারটিতে সাধারণ রোগীদের চিকিৎসার কোনো ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা হয়নি। চিকিৎসা দেয়া না গেলে পদায়ন করা জনবলেরও অপচয় হবে। এর পর সার্বিকভাবে হাসপাতালটি নিয়ে আলোচনা করা হয়। বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীকেও অবহিত করা হয়। সবার সঙ্গে আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে সেখানে স্থাপন করা শয্যাসহ অন্যান্য সামগ্রী সরিয়ে আনা হয়। ওইসব সামগ্রী প্রয়োজনীয়তার ভিত্তিতে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে সরবরাহ করা হয়। সেগুলো এখন চিকিৎসার কাজে লাগছে।
চট্টগ্রামের ফিল্ড হাসপাতাল:  এ হাসপাতালের উদ্যোক্তা ডা. বিদ্যুৎ বড়ুয়া। তিনি মনে করেছেন দেশে অনেক হাসপাতাল থাকলেও করোনা চিকিৎসার জন্য যথেষ্ট হাসপাতাল নেই। তাই উপযুক্ত হাসপাতাল কম থাকার কারণে তিনি সীতাকু-ের সলিমপুর পাকা রাস্তার মাথায় এ ফিল্ড হাসপাতাল স্থাপন করার উদ্যোগ নেন। সেসময় শুধু চট্টগ্রাম নয়, সারাদেশে এবং সারাবিশে^ করোনা যেভাবে দ্রুত ছড়িয়েছিল তাতে একটি ফিল্ড হাসপাতালের প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করেছেন তিনি। আর এটি স্থাপন করতে চাইলে তাঁকে নাভানা গ্রুপ পর্যাপ্ত জায়গা দিয়ে সহযোগিতা করেছেন। এ ছাড়া বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান এই হাসপাতাল নির্মাণে সহযোগিতা করেছে। চট্টগ্রামের সীতাকু-ে মাত্র ২৩ দিনের মধ্যে চালু হয়েছে মহামারি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসার জন্য দেশের প্রথম একটি অস্থায়ী ৬০ শয্যার ফিল্ড হাসপাতাল। ২০২০ সালের ২১ এপ্রিল (মঙ্গলবার)সকাল ১০টা থেকে  উপজেলার ফৌজদারহাট এলাকায় এ হাসপাতালের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়। এই হাসপাতালে ৬০টি বেডের পাশাপাশি করোনা চিকিৎসার জন্য অতি গুরুত্বপূর্ণ ৫টি ভেন্টিলেটর সুবিধাও ছিল বলে জানিয়েছেন উদ্যোক্তারা।
চট্টগ্রামের চিকিৎসক ডা. বিদ্যুৎ বড়ুয়া একটি ফিল্ড হাসপাতাল স্থাপনের উদ্যোগ নিলে বিশিষ্ট শিল্প গ্রুপ নাভানা এ কাজে সহযোগিতা করতে এগিয়ে আসে। তারা সীতাকু-ের  সলিমপুর পাক্কা রাস্তার মাথা এলাকায় অবস্থিত তাদের নিজস্ব সাড়ে ৭ হাজার স্কয়ার আয়তনের কারখানার জায়গায় এই হাসপাতাল স্থাপনের জন্য প্রদান করেন। সেসময় দ্রুতগতিতে  ১৫ দিন কাজ শেষে সেখানে হাসপাতালের অবকাঠামো, ৬০টি বেড ও ৫টি ভেন্টিলেটর স্থাপন সম্পন্ন করা হয়। ফলে দেশের প্রথম ফিল্ড হাসপাতাল হিসেবে সীতাকু-ের ফৌজদারহাটে উদ্যোগ গ্রহণের মাত্র ২৩ দিনের মাথায় ২০২০ সালের ২১ এপ্রিল মঙ্গলবার সকালে রোগী দেখার মধ্য দিয়ে এই হাসপাতাল জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হয়।
ভ্যাকসিন নিয়ে যত সমস্যা: বৈশ্বিক মহামারি কোভিড-১৯ এখন এক নতুন পর্যায়ে উপনীত হয়েছে, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পরিস্থিতি ভিন্ন ভিন্ন রূপ নিয়েছে। ইউরোপ এবং যুক্তরাষ্ট্রে পরিস্থিতি একসময় ভয়াবহ থাকলেও তা এখন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে। এশিয়ার দেশ ইন্দোনেশিয়া, ভারত, বাংলাদেশ, নেপালে এর ভয়াবহতা উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে। ইতোমধ্যেই এ ভাইরাসের নতুন ধরনের বিস্তার ঘটছে। একাধিক টিকা আবিষ্কার, তা বিতরণ এবং পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে প্রয়োগ শুরু হলেও বিপদ যায়নি, বরঞ্চ একাধিক ক্ষেত্রে তা আরও অনিশ্চয়তার সূচনা করেছে। অনেক দেশে টিকা বিতরণের ক্ষেত্রে দেখা দিয়েছে অব্যবস্থা, কোথাও কোথাও আস্থার সংকট, অবস্থার আরও অবনতি ঘটাচ্ছে। বাংলাদেশে টিকা দেয়ার ক্ষেত্রে প্রথমে পরিকল্পনা যথাযথ হয়নি। করোনা সংকট থেকে মানুষ কখন মুক্তি পাবে তা নিয়ে চিন্তা রয়েছে। আদৌ কি এ পরিস্থিতির আশু অবসান হবে কিনা তা নিয়েও সংশয় রয়েছে।
প্রায় দেড় বছর ধরে চলা এ মহামারি সারা পৃথিবীকে বিপর্যস্ত করে ফেলেছে। মহামারির প্রার্দুভাব, সরকারি অবহেলা, জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার দুর্বলতা এবং বিরাজমান আর্থ-সামাজিক কাঠামোগত বৈষম্যের কারণে ইতোমধ্যেই সারা পৃথিবীতে ২৪ জুলাই শনিবার পর্যন্ত ৪১ লাখ ৬৮ হাজারের বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। আক্রান্ত হয়েছে ১৯ কোটি ৪৪ লাখেরও বেশি মানুষ। এর আশু এবং প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়েছে অর্থনীতির ওপর; এক হিসাবে বলা হচ্ছে, ২০২০-২১ সালে বিশ্বের জিডিপির ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়াবে কমপক্ষে ১০ ট্রিলিয়ন ডলার। বিশ্বজুড়ে মন্দা এখন সুস্পষ্ট। বিশ্বব্যাংক বলেছে, ২০২০ সালে বৈশ্বিক অর্থনীতি ৪.৩ শতাংশে সংকুচিত হয়েছে। তবে সংস্থার পূর্বাভাস হচ্ছে ২০২১ সালে বিশ্বের অর্থনীতি ৪ শতাংশ এবং ২০২২ সালে ৩.৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হবে। এ পূর্বাভাস অবশ্য শর্তসাপেক্ষ। তা হচ্ছে টিকা সংগ্রহ এবং তা যথাযথভাবে বিতরণ। এসব ক্ষেত্রে ব্যত্যয় বা ব্যর্থতা ঘটলে যে প্রবৃদ্ধি একেবারেই অর্জন হবে না, সেটি বিশ্বব্যাংক বলেনি; কিন্তু এগুলো বাদ দিলে তার যে একটি অর্থনৈতিক মূল্য আছে, সেটি সবাই উপলব্ধি করতে পারেন।

গত ছয় মাসে টিকা সংগ্রহ এবং বিতরণের ঘটনাপ্রবাহ যে ইঙ্গিত দেয় তাকে বর্ণনা করা হচ্ছে ‘ভ্যাকসিন ন্যাশনালইজম’ বলে। বিশ্বের মানুষের অভিন্ন স্বার্থ বিবেচনা করা, সবার জন্য টিকার ব্যবস্থা করাকে অগ্রাধিকার দেয়ার বদলে নিজের জাতীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দেয়ার এ প্রবণতার নামই হচ্ছে টিকা জাতীয়তাবাদ। টিকা বিষয়ে গবেষণার সূচনা এবং আবিষ্কারের আগে থেকেই এ টিকাকেন্দ্রিক জাতীয়তাবাদের উত্থান ঘটেছে। মানবিক বিবেচনা, তুলনামূলকভাবে বঞ্চিতদের জন্য সুবিধা দেয়ার নৈতিক বিষয়গুলো বিবেচনায় রাখার বদলে নিজের দেশের নাগরিকদের বিবেচনায় টিকা সংগ্রহ এবং বিতরণের ক্ষেত্রে প্রাধান্য লাভ করার মধ্যে যে বিশ্বব্যবস্থা আমরা দেখতে পাই তা নতুন নয়। করোনাভাইরাসের মহামারির সূচনায় এ শিক্ষা সবার কাছে স্পষ্ট হয়েছিল, এককভাবে একে মোকাবিলা করা যাবে না, অর্থাৎ সবার স্বার্থকেই বিবেচনায় নিতে হবে; এটিও স্পষ্ট হয়েছিল, গত কয়েক দশক ধরে নব্য-উদারনৈতিক অর্থনীতির কাঠামো যে চিকিৎসাকে মুনাফার হাতিয়ারে পরিণত করেছে তার একটি কুফল হচ্ছে জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার দুর্বলতা। এর পরিবর্তন বা সংস্কার ছাড়া সবার জন্য চিকিৎসা সুবিধা দেয়া সম্ভব নয়। কিন্তু টিকা বিতরণের ক্ষেত্রে এসব বিবেচনা একেবারেই ধর্তব্যে নেয়া হয়নি। ফলে সবার জন্য টিকা পাওয়ার নিশ্চয়তা এখনো তৈরি হয়নি।
করোনাভাইরাস মোকাবেলায় ব্যবস্থাঃ ২০২০ সালে করোনাভাইরাস মোকাবেলায় ঢাকায় আটটি হাসপাতালসহ প্রতিটি জেলা শহরে অন্তত একটি হাসপাতালে আইসোলেশন ইউনিট প্রস্তুত রাখার কথা ঘোষণা করেছে সরকার। ঢাকা মহানগরীর আটটি হাসপাতাল এখনো পুরোপুরি প্রস্তুত হয়নি। আর ঢাকার বাইরের যেসব হাসপাতালে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা দেয়া হবে বলে বলা হচ্ছেÑএমন অনেক স্থানে প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়নি। এ ধরণের বেশিরভাগ হাসপাতালেই আইসিইউ সুবিধা নেই। চিকিৎসকদের জন্য পর্যাপ্ত পার্সোনেল প্রোটেকশন ইকুইপমেন্ট (পিপিই) নেই বলেও অভিযোগ রয়েছে।

করোনাভাইরাস মোকাবেলায় ঢাকা মহানগরীতে আইসোলেশন শয্যার সংখ্যা  তিন হাজারের উপর ছাড়িয়ে গেছে। এসব হাসপাতালে বেড়েছে আইসিইউ শয্যার সুবিধাও। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা মহানগরীর বাইরে ঢাকার অন্যান্য জেলায় আইসোলেশন বিছানার সংখ্যা ২২৭, চট্টগ্রামে ৪৪১, রাজশাহীতে ৫৫৮, বরিশালে ৪২৯, রংপুরে ৫২৫, সিলেটে ৬৬৪, ময়মনসিংহ ৯০, খুলনায় ৫৩১। বর্তমানে এ পরিসংখ্যান আরো সম্প্রসারণ হয়েছে।
ইউরোপে করোনাভাইরাসের সবচেয়ে মারাত্মক আঘাত লেগেছে ইতালিতে। ৩০ জুলাই পর্যন্ত ইতালিতে আক্রান্ত হয়েছে  ৪৩ লাখ ৪৩ হাজার ৫১৯জন। আর মৃত্যুবরণ করেছে ১ লাখ ২৮ হাজার ৪৭ জন। সেখানকার ডাক্তাররা পরিস্থিতিকে যুদ্ধের সাথে তুলনা করছেন। ইতালির করোনাভাইরাসের বিস্তার বৃদ্ধি পাওয়ার পর এক পর্যায়ে হাসপাতালে রোগী ভর্তি হলেও সবাইকে চিকিৎসা দিতে পারেনি দেশটির স্বাস্থ্য বিভাগ। ইতালিতে করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে প্রথম সারিতে থাকা চিকিৎসকরা বলেছেন, এত রোগীর ভিড় যে কাদের তারা বাঁচানোর চেষ্টা করবেন এবং কাদের ফেলে রাখবেন তা তাদেরকে বেছে নিতে হচ্ছে। কারণ সব রোগীর জন্য সেখানে পর্যাপ্ত নিবিড় পরিচর্যার বিছানা নেই। ইতালিতে ৫ হাজার ২০০ নিবিড় পরিচর্যা শয্যা থাকার পরেও সেখানে সব রোগীকে জায়গা দেয়া যায়নি। লোম্বার্ডির ক্রেমাতে সেনাবাহিনী গত বছর তাঁবু খাটিয়ে বহু লোকের চিকিৎসা করেছে। তাদের সাহায্য করার জন্য কিউবা থেকে ৫২ জন ডাক্তার আনা হয়েছিল। শুধু তাই নয়, ইতালির ক্রেমার কিছু ফিল্ড হাসপাতাল যেখানে স্বাস্থ্য কর্মীরা রোগীর চিকিৎসা দিতে গিয়ে হিমশিম খেয়েছিল। একই অবস্থা হয়েছিল স্পেন, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ব্রাজিল, জার্মানি, ফ্রান্স ও রাশিয়ার ক্ষেত্রেও।

বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাসের প্রকোপে মৃত্যু এবং আক্রান্তের হার কমানোর জন্য নানা দেশে অস্থায়ি ফিল্ড হাসপাতালে চলছে জীবন রক্ষার লড়াই। সেদেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ওপর করোনাভাইরাসের চাপ মোকাবেলার লক্ষ্যে বিভিন্ন দেশ 'ফিল্ড' বা অস্থায়ি হাসপাতাল তৈরি করে সেখানে হাজার হাজার রোগীর চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাচ্ছে। ডাক্তার ও রোগীদের সাহায্য করার জন্য সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য এমনকি এয়ারলাইন্সের অবসর-ভোগী কর্মীদেরও কাজে লাগানো হচ্ছে। কনফারেন্স হল, স্টেডিয়াম এবং মেলার মাঠগুলোকে রূপান্তর করা হচ্ছে অস্থায়ি হাসপাতাল হিসেবে। ব্রিটেনের লন্ডনে এক্সেল কনফারেন্স সেন্টারকে ৫শ’ শয্যার হাসপাতালে পরিণত করা হয়েছে। এই হাসপাতালে ভবিষ্যতে ৪ হাজার রোগীর সেবা দেয়া হবে। ব্রিটেনের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার চাহিদা মেটাতে এনএইচএস নাইটিংগেল হাসপাতাল তৈরি করা হচ্ছে। ৩০ জুলাই পর্যন্ত যুক্তরাজ্যে আক্রান্ত হয়েছে ৫৮ লাখ ৩০ হাজার ৭৭৪ জন। আর মৃত্যুবরণ করেছে ১ লাখ ২৯ হাজার ৫৮৩ জন।
স্পেনে কোভিড-১৯ রোগীদের মৃত্যুর সংখ্যা দিনকে দিন বাড়ছে। ৩০ জুলাই পর্যন্ত স্পেনে আক্রান্ত হয়েছে ৪৪ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ জন। আর মৃত্যুবরণ করেছে ৮১ হাজার ৪৮৬জন। সবচেয়ে বেশি রোগী শনাক্ত করা হয়েছে রাজধানী মাদ্রিদে। সেখানে ডাক্তাররা রোগীদের চিকিৎসার জন্য একটি একজিবিশন সেন্টারকে হাসপাতাল হিসেবে ব্যবহার করছেন। ২০২০ সালের করোনা মহামারির শুরু থেকেই মাদ্রিদের ইফেমা একজিবিশিন সেন্টারের হাসপাতালে রোগীদের চিকিৎসা শুরু হয়েছে।

বিশ্বে সবচেয়ে বেশি করোনাভাইরাস রোগী শনাক্ত হয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে। ৩০ জুলাই পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে আক্রান্ত হয়েছে ৩ কোটি ৫৬ লাখ ৪৯ হাজার ৫৮৪ জন। আর মৃত্যুবরণ করেছে ৬ লাখ ২৮ হাজার ৭৮১ জন। আর বলা হচ্ছে এই রোগের এপিসেন্টার বা কেন্দ্রস্থল হচ্ছে নিউইয়র্ক সিটি। নিউইয়র্কের সেন্ট্রাল পার্কে একটি অস্থায়ি হাসপাতাল নির্মাণ করা হয়েছিল ওই শহরের একটি বড় হাসপাতালের পাশেও তৈরি হয়েছিল মর্গ। *মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় একটি মেলার মাঠে ২৫০ বেডের হাসপাতাল তৈরি হয়েছে। ফোর্ট লডারডেল বিমানবন্দরের পাশে এক জায়গায় আরেকটি হাসপাতাল এখন নির্মাণাধীন। যুক্তরাষ্ট্রে বহু লোকের সমাবেশ বাতিল হওয়ার পর মার্চ থেকে মায়ামি-ডেডে কাউন্টি ফেয়ার বন্ধ রাখা হয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্রের করোনা বিশেষজ্ঞরা ফ্লোরিডায় করোনাভাইরাস রোগীর সংখ্যায় বিস্ফোরণ ঘটার আশঙ্কা করেছিলÑতা সত্যি হয়েছে। মার্কিন নৌবাহিনী হসপিটাল শিপ কমফোর্ট নিউইয়র্কসহ বড় বড়  শহরের জাহাজঘাটায় নোঙর করে ওই শহরের রোগীদের চিকিৎসা সেবা দিয়েছে। ভার্জিনিয়ার নরফোক নৌঘাঁটি থেকে ১ হাজার শয্যার ভাসমান হাসপাতালটি সেদেশে করোনা রোগীদের চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাচ্ছে। ব্রাজিলে  ৩০ জুলাই পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছে  ১ কোটি ৯৮ লাখ ৩৯ হাজার ৩৬৯ জন। আর মৃত্যুবরণ করেছে ৫ লাখ ৫৪ হাজার ৬২৬জন। ব্রাজিলের ক্লাবগুলো বিশ্বকাপ ফুটবলের সাবেক ভেন্যুগুলোকে হাসপাতালে পরিণত করেছে। গত বছর সাও পাওলোর পাসায়েম্বু স্টেডিয়াম এবং কনসার্ট ভেন্যুকে ২০০ শয্যার অস্থায়ি হাসপাতালে রূপান্তর করেছিল সেদেশের সরকার। এই স্টেডিয়ামে পল ম্যাককার্টনি এবং রোলিং স্টোনসের মত তারকারা একসময় গানের কনসার্ট করেছে।

ভারতের ভয়াবহ করোনা পরিস্থিতিকে আরো হৃদয়বিদারক করে তুলেছে অক্সিজেনের তীব্র সংকট। এপ্রিল থেকে পুরো মে মাস জুড়ে আক্রান্ত ও মৃত্যুতে টানা রেকর্ড তৈরি হয়েছিল সেখানে। এক দিনে শনাক্ত হয়েছে রেকর্ড চার লাখেরও বেশি রোগী। ৩০ জুলাই পর্যন্ত ভারতে আক্রান্ত হয়েছে ৩ কোটি ১৬ লাখ ১২ হাজার ৭৯৪ জন। আর মৃত্যুবরণ করেছে ৪ লাখ ২৩ হাজার ৮৪২ জন। অক্সিজেনের অভাবে সেখানে মারা যাওয়া বেশির ভাগ রোগীই করোনা আক্রান্ত ছিল। প্রত্যেকেই অক্সিজেনের চাপ কমে যাওয়ার কারণে মারা যায়। সে সময় হাসপাতালের অক্সিজেনের জরুরি মজুদ শেষ হয়ে যায়। বর্তমানে ভারতে করোনা পরিস্থিতি অনেকটা নিয়ন্ত্রণে। তাই হাসপাতালে বর্তমানে থাকা রোগীর মধ্যে অক্সিজেন সাপোর্ট ও আইসিইউর সমস্যা নেই বললেই চলে। এপ্রিল মাসে করোনার সংকটময় পরিস্থিতিতে ভারতে যখন ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের প্রকোপ বেড়ে গিয়েছিল তখন হাসপাতালগুলোতে লাশ আর লাশের মিছিল। ভারতের অধিকাংশ প্রদেশের চিতাগুলোতে এতো লাশ আসতে থাকে সেখানে দাহ করানোর জায়গা পর্যন্ত ছিলনা। লাশ দাহ করতে হয়েছে রাস্তায়, ফুটপাতে। লাশ দাহ করতে হয়েছে ডাস্টবিনের জায়গায়। লাশ দাহ করতে হয়েছে লোকালয়ে। এমনকি লাশ দাহ করার জায়গা না পেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো গঙ্গা ব্রন্মপুত্র নদীতে লাশ ফেলে দিতে বাধ্য হয়েছে। শুধু এ দুটি নদিতে নয় তারা আরও অনেক নদিতে লাশ ফেলেছে। সে লাশ আবার ভেসে এসেছে কোনো অজপাড়া গায়ের সমুদ্র কিংবা নদির কূলে। কি মর্মান্তিক দৃশ্য দেখেছে সারাবিশে^র মানুষ। আর ওই সময় ভারতের সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে তরল অক্সিজেনের মজুদ শেষ হয়ে যায়। কেন্দ্রীয় গ্যাস পাইপলাইনের সঙ্গে অক্সিজেন সিলিন্ডারের সংযোগ করে দিলেও অক্সিজেনের চাপ কম থাকায় রোগীরা মারা যান। অক্সিজেনের মজুদ শেষ হয়ে যাওয়ার কারণে সেখানে করোনা রোগীর লাশের মিছিল হয়েছিল। ফলে জুন পর্যন্ত ভারতীয়দের জীবন ঝুঁকিতে ছিল।
ইরানেও করোনাভাইরাসের আঘাত মারাত্মক। রাজধানী তেহরানে একটি একজিবিশন সেন্টারকে ইরানি সেনাবাহিনী একটি ফিল্ড হাসপাতালে পরিণত করেছেÑযেখানে একসাথে ২ হাজার রোগীর চিকিৎসা দেয়া সম্ভব। ফিলিস্তিনের গাজা ভূখন্ডের রাফায় অস্থায়ি ফিল্ড হাসপাতাল তৈরির কাজ শুরু হয় চলতি বছরের মার্চ মাসের মাঝামাঝি থেকে। জাতিসংঘ আগেই হুঁশিয়ার করে বলেছে-ফিলিস্তিনী এলাকার দারিদ্র এবং দুর্বল স্বাস্থ্য ব্যবস্থার কারণে সেখানে করোনাভাইরাসের প্রকোপ হবে বিপর্যয়কর।

আইসিইউ'র সংকটে বাড়ছে মৃত্যুর হার: করোনা সংক্রমণের উচ্চ ঝুঁকিতে থাকা ৩১ জেলার মধ্যে ১৫টিতেই নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র(আইসিইউ) নেই। এক বছর আগে প্রধানমন্ত্রী প্রতিটি জেলা সদর হাসপাতালে আইসিইউ ইউনিট স্থাপনের নির্দেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু এত দিনেও জেলা পর্যায়ে আইসিইউ ইউনিট তৈরি না হওয়ায় স্বাস্থ্য বিভাগের গাফিলতিকে দায়ী করছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। সম্প্রতি স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে প্রকাশিত উচ্চ সংক্রমণ রয়েছে এমন ৩১টি জেলার মধ্যে ১১টি জেলা খুলনা, রাজশাহী ও ঢাকা বিভাগে। চলতি বছরের এপ্রিল থেকে ২৮ জুলাই পর্যন্ত এই তিন বিভাগে সবচেয়ে বেশি সংক্রমণ শনাক্ত হচ্ছে, মৃত্যুর হারও এই তিন বিভাগে বেশি। সারা দেশে এ সময়ে অগনিত মানুষের মৃত্যু হয়েছে। আর অধিকাংশ মানুষ এই তিন বিভাগের। অথচ সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এ বিভাগে উচ্চ সংক্রমণ থাকা ১১ জেলার ছয়টিতেই আইসিইউ নেই। জেলাগুলো হলো: টাঙ্গাইল, মাদারীপুর, শরীয়তপুর, নরসিংদী, রাজবাড়ী ও মুন্সিগঞ্জ। আক্রান্ত ও মৃত্যুর হারের দিক দিয়ে এই তিন বিভাগের পর  চট্টগ্রামের অবস্থান। চট্টগ্রাম বিভাগেও আক্রান্ত ও মৃত্যুর হার বেড়েই চলেছে। এই বিভাগে উচ্চ সংক্রমণের ঝুঁকিতে থাকা নোয়াখালী, চাঁদপুর, লক্ষ্মীপুর ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আইসিইউ নেই। উচ্চ সংক্রমণের ঝুঁকিতে থাকা খুলনা বিভাগের নড়াইল ও যশোর, রাজশাহী বিভাগের নওগাঁ ও নাটোর এবং রংপুর বিভাগের নীলফামারী জেলায় আইসিইউ সুবিধা নেই।

সংক্রমণ মোকাবেলায় স্বাস্থ্যবিভাগ কতটা প্রস্তুত? দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় চিকিৎসা সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছে স্বাস্থ্যবিভাগ। যদিও স্বাস্থ্যখাতের কর্মকর্তারা বিভিন্ন সময় দাবি করছেন যে করোনাভাইরাস মোকাবেলায় তারা পর্যাপ্ত ব্যবস্


রিটেলেড নিউজ

চন্দনাইশে সন্তান বিক্রি করল পাষন্ড বাবা, উদ্ধার করে দিল চান্দগাঁও থানা পুলিশ

চন্দনাইশে সন্তান বিক্রি করল পাষন্ড বাবা, উদ্ধার করে দিল চান্দগাঁও থানা পুলিশ

বিশেষ প্রতিবেদকঃ

মায়ের অগোচরে বিক্রি করে দেওয়া ছয় মাস বয়সী শিশুকে চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলা থেকে উদ্ধার করেছে ... বিস্তারিত

একই পরিবারের তিন জনকেই হত্যা, লাশ উদ্ধার

একই পরিবারের তিন জনকেই হত্যা, লাশ উদ্ধার

বিশেষ প্রতিবেদকঃ

মিরসরাই উপজেলার একটি বাড়ি থেকে স্বামী, স্ত্রী ও তাদের ছেলেসন্তানের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করেছে ... বিস্তারিত

 ওসি মোহাম্মদ মহসীন ও তার স্ত্রীর নামে বিপুল সম্পদের খোঁজ পেয়েছে দুদক

ওসি মোহাম্মদ মহসীন ও তার স্ত্রীর নামে বিপুল সম্পদের খোঁজ পেয়েছে দুদক

বিশেষ প্রতিবেদকঃ

চট্টগ্রামের আলোচিত-সালোচিত সদ্য চুয়াডাঙ্গার সদর থানার বদলীকৃত ওসি মোহাম্মদ মহসীন ও তার স্ত্রীর ... বিস্তারিত

সাতকানিয়ার সাঙ্গু নদী থেকে বালু উত্তোলন নিয়ে সংঘর্ষে আহত ৮

সাতকানিয়ার সাঙ্গু নদী থেকে বালু উত্তোলন নিয়ে সংঘর্ষে আহত ৮

নিজস্ব প্রতিনিধি:

বৃহস্পতিবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকালে চট্টগ্রাম সাতকানিয়ার চরতী ইউনিয়নের তুলাতলী ৪ নম্বর ওয়ার্ডে ... বিস্তারিত

ক্লাসে ফ্যান খুলে পড়ল মাথায়! শিক্ষিকা হাসপাতালে

ক্লাসে ফ্যান খুলে পড়ল মাথায়! শিক্ষিকা হাসপাতালে

চাটগাঁর সংবাদ অনলাইন ডেস্ক:

ক্লাস চলাকালে সচল সিলিং ফ্যান মাথার ওপর পড়ে গুরুতর আহত হন প্রশিক্ষণার্থী শিক্ষিকা শামীমা ... বিস্তারিত

বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আওয়ামী লীগের ৪৩ জন ইউপি চেয়ারম্যান

বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আওয়ামী লীগের ৪৩ জন ইউপি চেয়ারম্যান

অনলাইন ডেস্কঃ

করোনার (কোভিড-১৯) কারণে সারাদেশে স্থগিত প্রথম ধাপের ১৬০টি ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) নির্বাচনে ... বিস্তারিত

সর্বশেষ

বুধবার যে পথে যাবে মিলাদুন্নবীর জশনে জুলুস

বুধবার যে পথে যাবে মিলাদুন্নবীর জশনে জুলুস

অনলাইন ডেস্কঃ

হজরতুল আল্লামা পীর সৈয়্যদ মুহাম্মদ সাবির শাহের (মজিআ) নেতৃত্বে বুধবার (২০ অক্টোবর) নগরের মুরাদপুর ... বিস্তারিত

চন্দনাইশে যুবলীগের শান্তি ও সম্প্রীতি র‌্যালী অনুষ্ঠিত

চন্দনাইশে যুবলীগের শান্তি ও সম্প্রীতি র‌্যালী অনুষ্ঠিত

মুহাম্মদ আরফাত হোসেন, বিশেষ প্রতিনিধিঃ

’সাম্প্রদায়িক সন্ত্রস; রুখে দাঁড়াও বাংলাদেশ’ এ শ্লোগানে কেদ্রীয় কর্মসূচীর অংশ হিসেবে চন্দনাইশে ... বিস্তারিত

সাম্প্রদায়িক অপশক্তির বিরুদ্ধে দল মত নির্বিশেষে সবার ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহবান জানান মহিউদ্দিন বাচ্চু

সাম্প্রদায়িক অপশক্তির বিরুদ্ধে দল মত নির্বিশেষে সবার ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহবান জানান মহিউদ্দিন বাচ্চু

বিশেষ প্রতিনিধিঃ

বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল এর ... বিস্তারিত

সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়ার লক্ষে দেবাশীষ পাল দেবুর নেতৃত্বে যুবলীগের শান্তি ও সম্প্রীতি মিছিল

সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়ার লক্ষে দেবাশীষ পাল দেবুর নেতৃত্বে যুবলীগের শান্তি ও সম্প্রীতি মিছিল

নিজস্ব প্রতিনিধি:

বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ কর্তৃক ঘোষিত কর্মসুচীর অংশ হিসেবে কেন্দ্রীয় কমিটির চেয়ারম্যান শেখ ... বিস্তারিত