প্রাথমিক শিক্ষায় ফিনল্যান্ডের সাফল্য

মোহাম্মদ শহীদুল ইসলামঃ    ০৩:৩৫ পিএম, ২০২১-০৬-১৬    250


প্রাথমিক শিক্ষায় ফিনল্যান্ডের সাফল্য

ফিনল্যান্ডের প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় সাফল্য বর্তমানে সারাবিশ্বে শীর্ষস্থান দখল করে আছে। ফিনল্যান্ডে শিক্ষার্থীদের পঠন-পাঠন, গণিত ও বিজ্ঞান বিষয়ে পারদর্শিতার ওপর অত্যাধিক গুরুত্ব দেয়া হয়। শিক্ষকগণকে এসব বিষয়ে দক্ষ করে তােলার কারণে তারা অত্যন্ত দক্ষতার সাথে শিক্ষার্থীদেরকে শিখনফল ও যােগ্যতা অর্জন করাতে পারেন। এদেশের সবচেয়ে মেধাবীদের মধ্যকার ১০% কে শিক্ষকতায় নিয়ােগ করা হয়। আর ৩,৫০০ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৬২,০০০ শিক্ষক কর্মরত আছেন। কোন কোন বিদ্যালয়ে ছাত্র/ছাত্রীর সংখ্যা এত কম যে, শিক্ষকগণ প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে ব্যক্তিগতভাবে জানেন। শিক্ষণ শেখানাের কোন কৌশল ব্যার্থ হলে। শিক্ষকগণ অন্য সহকর্মীদের সহায়তা নেন ও তা সমাধান করেন। শিক্ষকগণ শেখানাের যে কোন চ্যালেঞ্জ অবলীলায় মােকাবেলা করতে পারেন। ফিনল্যান্ডের শিশুরা প্রথম ৯ বছরে ৩০% শিখনে বিশেষ সরকারি সহায়তা পেয়ে থাকে। আর ফিনল্যান্ড এক জাতির দেশ হিসেবে পরিচিত হলেও প্রতি ১৫০ জন স-শিক্ষার্থীর মধ্যে অর্ধেকের বেশি অভিবাসী শিশু। অভিবাসী শিশুদের মধ্যে রয়েছে- সােমালীয়, ইরাকী, রুশ, বাংলাদেশি, এস্তোনীয়, ইউরােপীয় এবং অন্যান্য দেশের। স্বচ্ছল পরিবারের শিশুরা বিদ্যালয়ে থাকলেও শিক্ষকদের দৃষ্টি থাকে দরিদ্র শিশুদের প্রতি এবং তাদেরকে অত্যন্ত যত্নসহকারে শিক্ষা দেয়া হয়ে থাকে। প্রায় ৪০ বছর পূর্ব হতে ফিনল্যান্ড সরকার শিক্ষার উন্নয়নে দৃষ্টি দিলেও বিগত ২০০০ সাল পর্যন্ত এতে তারা তেমন সাফল্য পায়নি। ২০০০ সালে ৪০টিরও বেশি দেশে সমীক্ষা চালিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। এতে ফিনল্যান্ডের শিশুরাই সবচেয়ে বেশি পঠন-পাঠনে পারদর্শি বলে চিহ্নিত করা হয়। তিন বছর পরে ২০০৩ সালে তাদের শিশুরা গণিতেও সেরা বলে প্রমাণিত হয়। ২০০৬ সালে ৫৭টি দেশের ওপর পরিচালিত এক সমীক্ষায় ফিনল্যান্ডের শিশুরা বিজ্ঞান বিষয়েও সেরা বিবেচিত হয়। ২০০৯ সালে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী মূল্যায়ন সমীক্ষায় দেখা যায় যে, ফিনল্যান্ডের শিশুরা সারাবিশ্বে বিজ্ঞানে দ্বিতীয়, পঠন-পাঠনে তৃতীয় এবং গাণিতিক দক্ষতায় ৬ষ্ঠ স্থান অর্জন করেছে। ফিনল্যান্ডে উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষা সমাপনি পরীক্ষা ছাড়া আনুষ্ঠানিক কোন কেন্দ্রে পরীক্ষা গ্রহণ করা হয় না। সেখানে কোন ব্যাংকিং বা কোন তুলনা বা ছাত্র/ছাত্রীর মধ্যকার কোন প্রতিদ্বন্দ্বীতা বা বিদ্যালয়ের মধ্যে অথবা অঞ্চলের মধ্যেও কোন প্রতিযােগিতা নেই সেদেশের বিদ্যালয়গুলাে পরিচালিত হয়। সরকারি অর্থে। বিদ্যালয় পরিচালনায় জাতীয় পর্যায় হতে নিম্নস্তর পর্যন্ত যারা বা রাজনৈতিক নেতা শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনায় সংযুক্ত নন। প্রত্যেক বিদ্যালয়ে জড়িত তারা শিক্ষা বিভাগীয় কর্মকর্তা-কর্মচারী। কোন ব্যবসায়ি, সামরিক কর্মকর্তা পরিচালিত হয় জাতীয় একক লক্ষ্যকে সামনে রেখে এবং শিক্ষকগণ সকলেই বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে একই বিষয়ে বা পাঠ্যক্রমে শিক্ষা গ্রহণ করে শিক্ষকতায় নিয়ােজিত হয়েছেন। ফলে ফিনল্যান্ডের শিশুরা গ্রামে-গঞ্জে সর্বত্র একই ধারার শিক্ষা গ্রহণের সুযােগ পেয়ে থাকে। সবল-দুর্বল শিক্ষার্থীর মধ্যকার পার্থক্যও খুবই কম । তাদের শিক্ষায় সমতার বিষয়টি খুবই গুরুত্ব পেয়ে থাকে। আর জাতীয়ভাবে সরকারি ও বিরােধী দলীয় সকল রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ শিক্ষার মানােন্নয়নে একমত পােষণ করেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে কোন বিরােধ নেই। ফিনল্যান্ডে প্রাথমিক শিক্ষা শেষে প্রায় ১০০% শিক্ষার্থী মাধ্যমিক শিক্ষাস্তরে পড়াশােনা অব্যাহত রাখে এবং স্নাতক ডিগ্রী বা কারিগরী বিষয়ে সনদ লাভ করে থাকে। যার হার যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে ১৮% বেশি এবং ইউরােপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলাের মধ্যে সবচেয়ে বেশি। আর যুক্ত রাষ্ট্র প্রতিজন শিক্ষার্থীর জন্য যা ব্যয় করে ফিনল্যান্ড তার চেয়ে ৩০% কম খরচ করে থাকে। ফিনল্যান্ডের একজন প্রাক্তন গণিত শিক্ষক বলেন, 'তাদের শিশুদের কীভাবে শিখতে হয় বা শেখানাে হয়, কীভাবে পরীক্ষায় অবতীর্ণ হতে হয় তা নয়।' সে শিক্ষক আরাে বলেন, তাদের শিশুদের আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে অগ্রগামি হওয়া নিয়ে তাদের কোন মাথাব্যথা নেই।'

ফিনল্যান্ডের শিশুরা শিখে খেলতে খেলতে, আনন্দ-উল্লাসের মধ্য দিয়ে। শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদেরকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষকদের চেয়ে শ্রেণিকক্ষে কম সময় দিয়ে থাকেন। শিক্ষকগণ পাঠদান কৌশল ও শিখন-শেখানাে বিষয়বস্তু নির্ধারণ, উপকরণ তৈরি, পাঠদান প্রস্তুতি এবং শিক্ষার্থীদের মূল্যায়নে অতিরিক্ত সময় ব্যয় করে থাকেন। শিক্ষার্থীরা খেলাধুলার মাঝেই অনেক সময় কাটায়। বাড়ির কাজ দেয়া হয় অতি সাধারণ পরিমাণের। আর ৭ বছর বয়স না হওয়া পর্যন্ত বিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া বাধ্যতামূলক নয়। তাদের ভাবনা হলাে, শিশুদের শিক্ষা গ্রহণ উপযোগি না হওয়া পর্যন্ত তাদের শিখন-শেখানােতে বাধ্য করা ঠিক নয়। সেখানকার কোন শিশু গৃহহীন বা অভুক্ত থাকে না। ফিনল্যান্ডে নারী শিক্ষকদের মাতৃত্ব ছুটি দেয়া হয় ৩ বছর। ডে-কেয়ারের জন্য অভিভাবকদেরকে ভর্তুকি দেয়া হয় এবং ৫ বছর বয়স পর্যন্ত শিশুদের বিদ্যালয় ভর্তিপূর্ব শিখন ও স্বাস্থ্যসেবা দেয়া হয়। তাছাড়া সরকার একজন শিশু ১৭ বছর বয়সে না পৌছা পর্যন্ত প্রতিমাসে ১৫০ ইউরাে করে ভর্তুকি দেয়। ৬ বছর বয়সে ৯৭% সরকারি সহায়তায় বিদ্যালয় ভর্তিপূর্ব শিক্ষায় ভর্তি হয়ে থাকে। এ স্তরে শিশুরা হালকা চালে পড়াশোনা করে থাকে। বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদেরকে খাবার, স্বাস্থ্য সেবা ও পরিবহন সুবিধা দেয়া হয়। শিক্ষার্থীরা বিনা খরচে স্বাস্থ্য সেবা পেয়ে থাকে।

মোঃ শহীদুল ইসলাম ( শিক্ষক ও লেখক)



রিটেলেড নিউজ

সন্তান কোলে নিয়েই শিক্ষার্থীদের পড়াচ্ছেন মা, প্রশংসায় ভাসছেন ফেসবুকে

সন্তান কোলে নিয়েই শিক্ষার্থীদের পড়াচ্ছেন মা, প্রশংসায় ভাসছেন ফেসবুকে

বিশেষ প্রতিনিধিঃ

ডানা ত্রিপুরা বান্দরবানের আলীকদমের পানবাজার এলাকার চম্পট পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ... বিস্তারিত

ক্লাসে ফ্যান খুলে পড়ল মাথায়! শিক্ষিকা হাসপাতালে

ক্লাসে ফ্যান খুলে পড়ল মাথায়! শিক্ষিকা হাসপাতালে

চাটগাঁর সংবাদ অনলাইন ডেস্ক:

ক্লাস চলাকালে সচল সিলিং ফ্যান মাথার ওপর পড়ে গুরুতর আহত হন প্রশিক্ষণার্থী শিক্ষিকা শামীমা ... বিস্তারিত

বঙ্গবন্ধু হেরিটেজ হালদা নদীর উপর পি.এইচ.ডি ডিগ্রি অর্জন প্রভাষক মৎস্য সফিকুল ইসলামের

বঙ্গবন্ধু হেরিটেজ হালদা নদীর উপর পি.এইচ.ডি ডিগ্রি অর্জন প্রভাষক মৎস্য সফিকুল ইসলামের

নিজস্ব প্রতিনিধি:

দক্ষিণ এশিয়ার বিখ্যাত  মিঠা পানির মৎস্য প্রজনন কেন্দ্র হালদা নদীর পানি দূষণ সম্পর্কিত বিষয়ের  ... বিস্তারিত

প্রাথমিকে প্রধান শিক্ষক সহ ২ কর্মকর্তাকে শোকজ

প্রাথমিকে প্রধান শিক্ষক সহ ২ কর্মকর্তাকে শোকজ

অনলাইন ডেস্কঃ

বিদ্যালয়ের খেলার মাঠে ও ভেতরে ময়লা-আবর্জনা থাকায় দুই কর্মকর্তা ও একজন প্রধান শিক্ষককে শোকজ করা ... বিস্তারিত

শিক্ষকদের অনলাইন ফ্ল্যাটফর্ম শিক্ষক বাতায়নের অ্যাম্বাসেডর হলেন অধ্যাপক মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ

শিক্ষকদের অনলাইন ফ্ল্যাটফর্ম শিক্ষক বাতায়নের অ্যাম্বাসেডর হলেন অধ্যাপক মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ

বিশেষ প্রতিনিধিঃ

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের আইসিটি ডিভিশন এবং কেবিনেট ডিভিশনের এ টু আই পরিচালিত দেশের সকল ... বিস্তারিত

কালারমারছড়া শাহ মজিদিয়া বালিকা মাদরাসায় মুজিব কর্নার উদ্বোধন

কালারমারছড়া শাহ মজিদিয়া বালিকা মাদরাসায় মুজিব কর্নার উদ্বোধন

অনলাইন ডেস্কঃ

প্রেস বিজ্ঞপ্তিমহেশখালী উপজেলার কালারমারছড়া শাহ মজিদিয়া বালিকা দাখিল মাদ্রাসায় বঙ্গবন্ধু ... বিস্তারিত

সর্বশেষ

বীর মুক্তিযোদ্ধা কাজী  ইনামুল হক দানু'র কবরে শ্রদ্ধা নিবেদন করলেন কাউন্সিলর পদপ্রার্থী হাজী মুহাম্মদ সেলিম রহমান

বীর মুক্তিযোদ্ধা কাজী ইনামুল হক দানু'র কবরে শ্রদ্ধা নিবেদন করলেন কাউন্সিলর পদপ্রার্থী হাজী মুহাম্মদ সেলিম রহমান

বিশেষ প্রতিবেদকঃ

চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা কাজী ইনামুল হক দানুর কবরে ... বিস্তারিত

সন্তান কোলে নিয়েই শিক্ষার্থীদের পড়াচ্ছেন মা, প্রশংসায় ভাসছেন ফেসবুকে

সন্তান কোলে নিয়েই শিক্ষার্থীদের পড়াচ্ছেন মা, প্রশংসায় ভাসছেন ফেসবুকে

বিশেষ প্রতিনিধিঃ

ডানা ত্রিপুরা বান্দরবানের আলীকদমের পানবাজার এলাকার চম্পট পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ... বিস্তারিত

আমির ভান্ডারের ওরশ শরীফ সম্পন্ন

আমির ভান্ডারের ওরশ শরীফ সম্পন্ন

নিজস্ব প্রতিনিধি:

পটিয়ায় আমির ভান্ডার দরবার শরীফের হাদীয়ে জামান শাহ সূফী হযরত মাওলানা সৈয়দ মুহাম্মদ আবু সৈয়দ শাহ ... বিস্তারিত

এম এ মান্নানের কবরে শ্রদ্ধা নিবেদন করলেন কাউন্সিলর পদপ্রার্থী হাজী মুহাম্মদ সেলিম রহমান

এম এ মান্নানের কবরে শ্রদ্ধা নিবেদন করলেন কাউন্সিলর পদপ্রার্থী হাজী মুহাম্মদ সেলিম রহমান

বিশেষ প্রতিনিধিঃ

মহান মুক্তিযুদ্ধের গুরুত্বপূর্ণ  সংগঠক মুক্তিযোদ্ধাকালীন বাংলাদেশ লিবারেশন ফোর্স (বি,এল,এফ)এর ... বিস্তারিত