পাহাড় ধস ট্র্যাজেডি থেকে বাঁচার উপায় কি?

অতিথি লেখকঃ    ০৪:০৯ পিএম, ২০২০-০৮-২৬    377


পাহাড় ধস ট্র্যাজেডি থেকে বাঁচার উপায় কি?

চট্টগ্রাম শহর মূলত পাহাড় ঘেরা প্রকৃতি নিয়ে সজ্জিত। সমগ্র চট্টগ্রাম এক সময় পাহাড় দ্বারা আবৃত ছিল। কালের পরিক্রমায় জনসংখ্যা বৃদ্ধিতে তখন শহরের বন-জঙ্গল ও পাহাড় কেটে সমান্তরাল করা হয়েছে। তখনকার সে আধুনিকায়নকে অভিশাপ বলা যাবে না। বরং বিধাতার পরম আশীর্বাদ বলতে হবে। যার ফলে আমাদের এই চট্টগ্রাম আজ আধুনিক শহরে রূপান্তরিত হয়েছে। ইদানিং শহরে ও গ্রামে পাহাড় কাটা নিয়ে যা দেখছি আমরা তা অভিশাপ হিসেবে ধরে নিচ্ছি। অদূর ভবিষ্যতে দেশে পাহাড় থাকবে কিনা তা বলা মুশকিল। সবুজ-শ্যামল এই বাংলাদেশে যদি কখনো অপরিকল্পিত আবাসন গড়তে পাহাড় শূন্য হয়, তাহলে দেশে ভয়াবহ পরিবেশ ও প্রতিবেশের বিপর্যয় ঘটবে। এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে আমাদের আগামী প্রজন্মের উপর। তাঁদেরকে বড়ই দুর্ভাগা বলতে হবে। কেননা তখন তারেকে যাদুঘরে গিয়ে পাহাড় দেখতে হবে। চট্টগ্রামের প্রতিটি পাহাড়েই এখন ভূমিদস্যুদের লোভাতুর দৃষ্টি রয়েছে। পাহাড় কাটা নিষিদ্ধ করে আইন প্রণয়ন করা হলেও থেমে নেই পাহাড় কাটা। পাহাড় কেটে ক্ষত-বিক্ষত করে রাখে ভূমিদস্যুরা। ফলে দেশে পাহাড় ধসের ঘটনা এখন একটি অন্যতম প্রধান সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

পাহাড় ধস ট্র্যাজেডি: প্রতি বছর পাহাড় ধসে অগণিত মানুষের মৃত্যু হওয়ায় এটি এখন ট্র্যাজেডিতে রূপ নিয়েছে। কিছুতেই থামছে না মৃত্যুর মিছিল। এ ট্র্যাজেডি দিন দিন বেড়েই চলেছে। চট্টগ্রামে ২০০৭ সালের পর থেকে পাহাড় ধস বেড়েছে। এর আগে পাহাড় ধস চট্টগ্রামে খুব একটা হয়নি। ভূমিহীন হতদরিদ্র, ছিন্নমূল এমন গরিব পরিবারদের প্রলোভন দেখিয়ে তাঁদের অসহায়ত্বকে পুজি করে প-ট বাণিজ্যের মাধ্যমে দিনের পর দিন নির্বিচারে পাহাড় কেটে বনাঞ্চল ধ্বংস করেছে দেশদ্রোহী পাহাড় খেকোরা। এমনকি হুমকির মুখে রয়েছে পরিবেশ। পাহাড়ের উপরে ও পাদদেশের মৃত্যুকোলে এখনও অগণিত পরিবার বসবাস করছে।

প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে মৃত্যুর মিছিলে নতুন নতুন নাম যোগ হলেও মাথা গোজার ঠাঁই না থাকায় নিম্ন আয়ের মানুষগুলো নিশ্চিত মৃত্যু জেনেও পাহাড়ে জীবনের চরম ঝুঁকি নিয়ে বাস করছে। বৃষ্টি হলে যেন পাহাড় ধসে ধেয়ে আসছে মৃত্যুদূত। চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ২০০৭ সালের ১১জুন চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্থানে ১২৭ জন নিহত হয়েছিল। ২০০৮ সালে ১৪ জন, ২০০৯ সালে ৩ জন, ২০১০ সালে ৩ জন, ২০১১ সালে ১৭ জন, ২০১২ সালে ২৮ জন, ২০১৩ সালে ২ জন, ২০১৪ সালে ১ জন, ২০১৫ সালে ৬ জন, ২০১৬ সালে নগরীতে কেউ মারা না গেলেও সে বছরের ১৩ জুন রাঙ্গুনিয়া ও চন্দনাইশে ২৫ জনের মৃত্যু হয়। ২০১৭ সালে পাঁচ জেলায় পাহাড় ধসে ১৬৩ জনের মৃত্যু হয়। 

বিশ্ব কলোনি পাহাড় ধস ট্র্র্যাজেডি: বাটালি হিল পাহাড় ধসে প্রানহাণি ঘটনার ক্ষত না শুকাতেই এর কয়েকদিন পর আবারও পাহাড় ধস হয় নগরীর খুলশি থানাধীন কৈবল্যধাম বিশ্ব কলোনিতে। ঘটনাস্থল পাহাড়ে বসবাসকারী বসতিগুলো বিশ্ব কলোনির জি ব-কের শেষ মাথায়। সেদিন সকাল ছয়টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। সরেজমিনে জানা যায়, বিশ্ব কলোনির বালুর পাহাড়টির পাদদেশে শতাধিক অবৈধ বসতি রয়েছে। সেদিন ৬০-৭০ ফুট উঁচু পাহাড় থেকে মাটির একটি অংশ সকালে অস্থায়ী বসতিগুলোর উপরে পড়লে দু’জন নিহত দু’জন আহত হয়। পাহাড়ের পাদদেশে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় বসবাসের কারণে এই হতাহতের ঘটনা ঘটে। পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসকারী এসব পরিবারকে সরে যাবার জন্য সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে বারবার তাগাদা দিয়ে এবং মাইকিং করেও রক্ষা করা যাচ্ছে না।

বাটালি হিল পাহাড় ধস ট্র্র্যাজেডি: ২০১১ সালের ১ জুলাই নগরীর টাইগারপাস এলাকায় বাটালি হিলে পাহাড় ধসে ১৭ জনের মৃত্যু হয়। বাটালি হিলের ঢালে পাহাড় ও প্রতিরক্ষা দেয়াল ধসে এ প্রাণহাণির ঘটনা ঘটে। নিহতের মধ্যে অধিকাংশই ছিল নারী। ঝুঁকিপূর্ণ বসবাসের মধ্যে নিয়ম ভেঙে পাহাড় কাটা এবং ভারি বর্ষণের কারণে এ পাহাড় ধস সৃষ্টি হয়।

রাঙ্গামাটি পাহাড় ধস ট্র্র্যাজেডি: চট্টগ্রামে ১১ বছরে ঝরে গেছে ২৪০টি প্রাণ। বিভিন্ন সংস্থার হিসাব অনুযায়ী চার দশকে চট্টগ্রামে ৫শ’র বেশি মানুষের মৃত্যু হয় পাহাড়ের মাটি চাপায়। ২০১৭ সালের ১২ ও ১৩ জুন ভারি বর্ষণের কারণে রাঙ্গামাটিতে ব্যাপক পাহাড় ধস হয়। একই দিনে খাগড়াছড়ি, বান্দরবান ও চট্টগ্রামেও ভারি বৃষ্টিপাত হয়। ওই দুই দিনে পাহাড় ধসে ব্যাপক প্রানহাণি ঘটে। ২০১৭ সালে শুধু রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানে পাহাড় ধসে নিহত হয় ১৬৩ জন। একই বছরে চট্টগ্রাম বিভাগে পাহাড় ধসে নিহত হয় ১৭০ জনেরও বেশি মানুষ। চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের হিসাব অনুযায়ী ২০১৭ সালের ১২ ও ১৩ জুন রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি, বান্দরবান ও চট্টগ্রামে পাহাড় ধসে ১৫৫ জনের মৃত্যু হয়। এর ৫ দিন পর ১৮ জুন খাগড়াছড়িতে পাহাড় ধসে মৃত্যু হয় ৩ জন। 

এ নিয়ে এ চার জেলায় সে বছর পাহাড় ধসে মৃত্যু হয় ১৫৮ জনের। সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় ২০১৭ সালের ২০ জুলাই রাতে একই পরিবারের ৫ জনের মৃত্যু হয়। নিহতদের মধ্যে আছে তিন শিশুও। একই মাসে টানা বৃষ্টিতে বান্দরবানে আরো ৪ জন এবং কক্সবাজারে আরো ৪ জনের মৃত্যু হয়। চট্টগ্রামের বাইরে ২০১৭ সালের ১৮ জুন মৌলভিবাজারে পাহাড় ধসে আরো ২ জনের মৃত্যু হয়। গত ১৪ বছরে পাহাড় ধসে চট্টগ্রামে নিহতের সংখ্যা ২৩৯ জনেরও বেশি। 

ক্ষতিগ্রস্ত হয় যারা: দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে অভাবের তাড়নায় ছুটে আসা উদ্বাস্তু ও নিুআয়ের লোকেরা সাধারণত এসব ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ে বসবাস করার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। স্বল্প আয়ের এসব লোক না পারে ভালো কিছু খেতে, না পারে কিছু করতে। মাথা গোজার ঠাঁইটুকুও করতে পারেনা। অভাবের কারণে তাঁদের অনেক স্বাদ-আহ্লাদ থেকে যায়। যার ফলে তাঁদেরকে বসবাস করতে হয় পাহাড়ের চূড়ায় নয়তো রেল লাইনের পাশে। কি কষ্টের জীবন তাঁদের। কি অসহনীয় জীবন তাঁদের। কি বিবর্ণ জীবন তাঁদের। কোনো কোটিপতি যদি এসব হতদরিদ্রের বস্তিতে গিয়ে যদি এক ঘন্টা বসবাস করতে পারে, তাহলে নিশ্চিত তিনি জীবনের সঠিক অর্থ খুঁজে পাবে। কোটিপতিরা সবসময় বিমানে চলাফেরা করে এবং এসির বাতাসে থাকে; তাই তাদের সাে সাধারণ মানুষের সম্পৃক্ততা না থাকায় জীবনের সঠিক মর্ম এবং ব্যাখ্যা এদের কাছে থাকেনা।

এদের বসবাস: দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে অভাবের তাড়নায় ছুটে আসা উদ্বাস্তু ও নিুআয়ের লোকেরা সাধারণত এসব ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ে মাথা গোজার ঠাঁই করে নিয়েছেন। নগরীর যেখানে পাহাড় এবং পাহাড়ের পাদদেশে ঘনবসতি পূর্ণ এলাকা দেখা যায় তা হলো বিশ্ব কলোনি, ফিরোজ শাহ কলোনি, মতিঝর্না, বাটালি হিল, বাঘঘোনা, গরীবউল-াহ শাহ্ হাউজিং এলাকার পাশে, দামপাড়া পুলিশ লাইনের পেছনে, জালালাবাদ, খুলশি, বায়েজিদ, আকবরশাহ থানার শেষে সলিমপুর, চট্টগ্রাম সেনানিবাস ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার আশপাশে এসব পাহাড়ের অবস্থান। বিশ্বস্থ একটি সূত্রে জানা যায়, এসব পাহাড়ে আনুমানিক দু’লক্ষাধিক লোকের বসবাস রয়েছে। 

সরকারের পক্ষ থেকে এদের অন্যত্র বাসস্থানের ব্যবস্থা করা দরকার: ভূমিহীন,দারিদ্র এসব ক্ষতিগ্রস্ত নিম্ন আয়ের লোকদের জন্য চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক) ও জেলা প্রশাসন থেকে তালিকা করে সরকারি খাস জায়গায় জনপ্রতি এক কাঠা করে প-ট বরাদ্দ দেয়া যেতে পারে। অথবা সরকারি খাস জায়গায় বহুতল ভবন নির্মাণ করে ছোট পরিসরে ফ্ল্যাট বরাদ্দ দিয়ে এদেরকে অন্যত্র সরিয়ে নেয়া উচিত। কারণ, এসব হতদরিদ্র গরিব লোকদের মাথা গুজার ঠাঁই নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের মৌলিক কর্তব্য। এরা রাষ্ট্রের বাইরে কেউ নয়। এরা গরিব হতে পারে, কিন্তু রাষ্ট্রের নাগরিক। যদিও রাষ্ট্রের অনেক সুযোগ-সুবিধা ভোগ করা থেকে তাঁরা বঞ্চিত। রাষ্ট্রের সকল সুযোগ-সুবিধা ভোগ করার তাঁদের অধিকার রয়েছে।

পাহাড় ধস কেন হয়: প্রতি বর্ষায় উজান থেকে নেমে আসা বৃষ্টির পানি এবং ভারি বর্ষণের কারণে পাহাড় ধস হয়। যত্রতত্র ভাবে পাহাড়ে বসবাস এবং অতিরিক্ত পাহাড় কাটার কারণে পাহাড় ধস হয়। পাহাড়ি বনাঞ্চল ধ্বংস করার কারণেও পাহাড় ধস হয়ে থাকে।

পাহাড় ধসের জন্য দায়ি কারা: পাহাড় ধসের জন্য মূলত: ভূমিস্যুরা প্রধানত দায়ি। ভূমিস্যুরা ভূমিলোভী। এরা সাধারণত যে সরকার ক্ষমতায় থাকে সে দলের হয়ে থাকে। তার মানে ক্ষমতাসীন দল। এরা ক্ষমতার অপব্যবহার এবং পেশি শক্তি দিয়ে পাহাড়ের জায়গা খল করে। ডকুমেন্ট হিসাবে ব্যবহার করে ভুয়া জাললিল। চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক কার্যালয় এবং সাব-রেজিস্টার অফিসের কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যোগসাজসে এ ভুয়া জাল লিল সৃজন করা হয়। এ ভূমিস্যুদের কাছ থেকে বাদ যায়না পুকুর, দিঘি, নদী, নালা, খাল-বিল। প্রতি বছরই ভারি বর্ষণে পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটছে। এ যেন একটি নিত্য নৈমত্তিক বিষয়ে পরিণত হয়েছে। এত পাহাড় ধস ও প্রাণহাণির পরও সরকারের পক্ষ থেকে এর যথাযথ প্রতিকার দেখা যাচ্ছে না।

পাহাড় ধস প্রতিরোধের উপায়: পাহাড় ধস প্রতিরোধে আইন প্রণয়ন খুবই জরুরী। পাহাড় ধস ও পাহাড় ধসের প্রাণহানি প্রতিরোধ করতে হলে পাহাড় রক্ষার ব্যাপারে সরকারের কঠোর নজরদারি বাড়াতে হবে। পাহাড় কাটা প্রতিরোধের জন্য সঠিক পদক্ষেপ ও সময়োপযোগী নীতিমালা অবিলম্বে প্রণয়ন করা প্রয়োজন। সে সাথে পাহাড়ের অবৈধ খলার, ভূমিদস্যু তথা ডেভেলপার ও রিয়েল এস্টেট কোম্পানি সহ পাহাড় কাটার সাথে জড়িত ও সহযোগিতাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। মনে রাখতে হবে পাহাড় কোনো বান্দার সম্পত্তি নয় এটা প্রকৃতি প্রদত্ত সম্পূর্ণ জাতীয় সম্পদ। এর সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ পারে দেশকে প্রাকৃতিক বিপর্যয় হতে রক্ষা করতে।

পাহাড় ধস প্রতিরোধে আইন প্রণয়ন: পাহাড়ের জায়গায় কোনো বসবাস নয়। পাহাড়ের জায়গা লিজ নিয়ে কৃষি কাজ সম্পাদন করতে পারবে সাধারণ জনগণ। তবে এক্ষেত্রে তিন পার্বত্য জেলার হিসাব ভিন্ন। আদিবাসীরা পাহাড়ে টং বানিয়ে যেভাবে বসবাস করে তা প্রকৃতির জন্য আর্শিবাদ বলা যায়। কেননা তারা যেভাবে পাহাড়ে বসবাস করে তা প্রকৃতি ও পরিবেশের জন্য কোনো ক্ষতিকর প্রভাব বিস্তার করেনা। এককথায় পাহাড়ে বসবাসে তাঁদের কোনো ক্ষতিকর দিক নেই। এছাড়া তাদের জুম চাষ প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষা করে। কিন্তু ভূমিদস্যুরা প্রকৃতিপ্রদত্ত এ পাহাড়গুলোকে সমতলে পরিণত করতে উঠে পড়ে লেগেছে। তারা বাংলাদেশের পাহাড়ি এলাকাগুলোতে পাহাড়ের জায়গা ডিসি অফিস থেকে নামে-বেনামে লিজ নিয়ে ইটভাটা গড়ে তুলছে। যা প্রকৃতি ও পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকি বয়ে আনছে। এছাড়া পাহাড় এবং পাহাড়ি এলাকার ক্ষতি হয় এমন স্থানে যত্রতত্র কটেজ ও রিসোর্ট অনুমোদন না দেয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।

জনসচেতনতা বৃদ্ধি: বর্ষার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত চট্টগ্রাম মহানগরীর যেখানে যেখানে ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ে ঘনবসতি রয়েছে চসিক থেকে বিশেষ নজরদারি ও তদারকি করা প্রয়োজন। যৌক্তিক কারণ ছাড়া পাহাড় ধসে না। যে কারণে পাহাড় ধসে সে কারণটি খতিয়ে বের করলে পাহাড় ধস প্রতিরোধ করা সম্ভব। কাজেই পাহাড় ধস প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে।

পাহাড় ধসের কারণে জলাবদ্ধতা: অতিরিক্ত পাহাড় কাটার কারণে বৃষ্টির সময় পাহাড়ের বালিগুলো ড্রেনে নেমে আসে এবং পলি জমাতে ড্রেনের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়। যার ফলে নগরীতে জলাবদ্ধতা চরম আকারে দেখা দিচ্ছে। পাহাড় কাটার ফলে পরিবেশের মারাত্মক বিপর্যয় হচ্ছে বলে বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন।

পাহাড় ধসের কারণে পরিবেশের যে বিপর্যয় ঘটে: ভূমিদস্যুরা বেপরোয়াভাবে পাহাড় কাটার কারণে পাহাড় ধস হয়। ফলে, পাহাড় কাটার কারণে দেশে প্রতিবছর মৃদু ভূমিকম্প হতে দেখা যায়। পাহাড় ধস এবং ভূকম্পনের কারণে প্রতিবছর প্রানহাণিও ঘটে। এ পাহাড় ধসে হতদরিদ্র এবং সাধারণ মানুষরাও মৃত্যুবরণ করছে। বিশাল বিশাল পাহাড় ধসে পড়ায় পাহাড়ে থাকা গাছগুলোও উপড়ে পড়ছে। পাহাড় কাটার কারণে বৃষ্টির সময় ঝরে যাওয়া বালুগুলো বৃষ্টির সাথে নালা-নর্দমায় চলে আসে, ফলে নালা-নর্দমার পানি স্বাভাবিকভাবে প্রবাহিত হতে না পারায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। এতে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি জনর্দুভোগ সৃষ্টি হয়। যা জনগণের জন্য অস্বস্তিদায়ক।

পাহাড় ধস নিয়ে গবেষণা: পাহাড় ধস প্রতিরোধের বিষয়ে গত দশক ধরে যথেষ্ট আলোচনা ও সমালোচনা হয়েছে। তবুও থেমে নেই পাহাড় ধস। বিগত সরকার পাহাড় ধস প্রতিরোধে কোনো কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেনি। একই অবস্থা বর্তমান সরকারের ক্ষেত্রেও। এ নিয়ে বর্তমান সরকারও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না। ২০০৭ সালে চট্টগ্রামে নগরীর তিনটি স্থানে একই দিনে ১২৭ জনের মৃত্যু ঘটলে এ নিয়ে সরকারের উর্ধ্বতন মহলে তখন হৈ চৈ উঠেছিল। এ বিষয়ে কমিটিও গঠন করা হয়েছিল। বিভিন্ন সংস্থার পক্ষ থেকে পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসকারীদের সরিয়ে নেয়ার দাবি জোরালো হয়। প্রতিবার যখন পাহাড় ধস ও প্রাণহাণির ঘটনা ঘটে তখন দেখা যায় সরকার ও প্রশাসনের টনক নড়তে। কিছুদিন সময় অতিক্রম হওয়ার পর সে আগের দৃশ্য। তখন সরকার ও প্রশাসনকে নির্বিকার থাকতে দেখা যায়। এক কথায় ভুলে যাওয়া বলতে যা বুঝায়। আমাদের দেশের এ রীতিটা কখন পরিবর্তন হবে?

চট্টগ্রাম প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি প্রখ্যাত প্রকৌশলী প্রফেসর মোজাম্মেল হক চট্টগ্রামের পাহাড়গুলোর বিষয়ে একটি বিস্তারিত সমীক্ষা পরিচালনা করেছিলেন। তাঁর মতে, চট্টগ্রামের পাহাড়গুলি রক্ষা ও নিরাপদ করে তোলা খুব একটি কঠিন কাজ নয়। যৌক্তিক কারণ ছাড়া পাহাড় ধসে না। যে কারণে পাহাড় ধসে সে কারণটি খতিয়ে বের করলে পাহাড় ধস প্রতিরোধ করা সম্ভব। পূর্বে উলে-খ করেছি ২০০৭ সালে চট্টগ্রামে পাহাড় ধসে একই দিনে ১২৭ জনের মর্মান্তিক মৃত্যুর পর গঠিত পাহাড় রক্ষা কমিটির প্রধান ছিলেন তিনি। পরিশেষে বলা যায়, পাহাড় সংরক্ষণ অতীব জরুরি। প্রকৃতি প্রদত্ত এই জাতীয় সম্পদ রক্ষার্থে দেশের সমাজ সচেতন মানুষ সহ আপামর জনসাধারণকে এখন থেকে ভাবা উচিত। পাহাড় থাকলে বনাঞ্চল থাকবে। পাহাড় বাঁচলে পরিবেশ বাঁচবে।

আফছার উদ্দিন লিটন

লেখক ও সাংবাদিক



রিটেলেড নিউজ

মা-বাবাই হচ্ছেন সন্তানের প্রথম আদর্শ শিক্ষক

মা-বাবাই হচ্ছেন সন্তানের প্রথম আদর্শ শিক্ষক

অতিথি লেখকঃ

মনিকা শর্মা: আমরা এ জীবনকে সুন্দর করে সাজানোর জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি নিরন্তর। মানুষ তার মনের ... বিস্তারিত

আহমদ ছফা : বিস্ময়কর এক নক্ষত্রের নাম

আহমদ ছফা : বিস্ময়কর এক নক্ষত্রের নাম

অনলাইন ডেস্কঃ

আহমদ ছফা : বিস্ময়কর এক নক্ষত্রের নামনূরুল আ‌নোয়ারএকজন মানু‌ষের জীব‌নে বহু রকম ঘটনা ঘ‌টে, তার ... বিস্তারিত

লেখক সমাজচিন্তার বাইরে নয়

লেখক সমাজচিন্তার বাইরে নয়

মুহম্মদ রুহুল আমিন:

আহ! লেখক আর কবি-কবি-সাহিত্যিক কিংবা লেখক যে কেউ হতে পারে না। ইচ্ছে করলেও না। কেননা এখানে নিজেকে ... বিস্তারিত

হায় মৃত্যু! তুমিই সত্য আর কিছু না

হায় মৃত্যু! তুমিই সত্য আর কিছু না

চাটগাঁর সংবাদ অনলাইন ডেস্ক:

হারুনের সঙ্গে দেখা উত্তরা ক্লাবে। একটা কাজে গিয়েছিলাম বিকালের দিকে। হারুন লং টেনিস খেলে ... বিস্তারিত

সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী না হলে বল প্রয়োগের রাজনীতি বেশিদিন থাকে না

সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী না হলে বল প্রয়োগের রাজনীতি বেশিদিন থাকে না

আফছার উদ্দিন লিটন

সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী না হলে বল প্রয়োগের রাজনীতি বেশিদিন থাকে নাআবুল হসানাত মো. বেলাল। একজন ... বিস্তারিত

নিষ্ঠা, সততা ও সাহসের মূর্তপ্রতীক

নিষ্ঠা, সততা ও সাহসের মূর্তপ্রতীক

অতিথি লেখকঃ

তোফায়েল আহমেদ বাংলার গণমানুষের নন্দিত নেত্রী বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৪তম ... বিস্তারিত

সর্বশেষ

মাইজভান্ডার জেয়ারতে চসিক চকবাজার ওয়ার্ড উপনির্বাচনে কাউন্সিলর পদপ্রার্থী হাজী মুহাম্মদ সেলিম রহমান

মাইজভান্ডার জেয়ারতে চসিক চকবাজার ওয়ার্ড উপনির্বাচনে কাউন্সিলর পদপ্রার্থী হাজী মুহাম্মদ সেলিম রহমান

বিশেষ প্রতিনিধিঃ

ফটিকছড়ির মাইজভাণ্ডার শরীফ জেয়ারতে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) ১৬ নং চকবাজার ওয়ার্ড ... বিস্তারিত

সাতকানিয়ার মাদক কারবারি ৬০০০ ইয়াবা নিয়ে লোহাগাড়ায় আটক

সাতকানিয়ার মাদক কারবারি ৬০০০ ইয়াবা নিয়ে লোহাগাড়ায় আটক

মোঃ সাইফুল ইসলাম, চট্টগ্রামঃ

দক্ষিণ চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় ছয় হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ এক মাদক কারবারি আটক করেছে পুলিশ। ... বিস্তারিত

বাংলাদেশ অটোরিক্সা শ্রমিকলীগের আলোচনা সভা

বাংলাদেশ অটোরিক্সা শ্রমিকলীগের আলোচনা সভা

বিশেষ প্রতিনিধিঃ

বাংলাদেশ অটোরিক্সা শ্রমিকলীগ চট্টগ্রাম মহানগর কার্যকরি কমিটির এক জরুরী আলোচনা সভা সম্প্রতি ... বিস্তারিত

লোহাগাড়ায় ৬০০০ ইয়াবাসহ ১ যুবক পুলিশের হাতে আটক

লোহাগাড়ায় ৬০০০ ইয়াবাসহ ১ যুবক পুলিশের হাতে আটক

মোঃ সাইফুল ইসলাম, চট্টগ্রামঃ

লোহাগাড়ায় ৬ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ জুনাইদ (৩০) নামে এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ। ১৩ সেপ্টেম্বর ... বিস্তারিত